Shiraz Golden Restaurant (সিরাজ গোল্ডেন রেস্টুরেন্ট)

সিরাজের নবাবীয়ানা....

কলকাতার প্রসিদ্ধ যেসব বিরিয়ানির দোকান আছে তার মধ্যে অন্যতম হল সিরাজ। সিরাজের বিরিয়ানি খেয়ে দেখা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন অনেককেই করতে শোনা যায়। অবশেষে সেই সৌভাগ্যের ভাগিদার আমিও হলাম। না প্রশ্ন করার নয়.... ওতে কী আর ভাগ্য লাগে!? আমি চেখে দেখার সুযোগ পেলাম।

🔶️ কলকাতার বিভিন্ন বিখ্যাত দোকানের বিখ্যাত খাবারগুলি খেয়ে দেখার ইচ্ছার কথা আগেই বলেছি। সেই তালিকাতে সিরাজের নামও ছিল অনেকদিন ধরেই। এবার পুজোতে বেরিয়ে ঘুরে এলাম সিরাজ গোল্ডেন রেস্টুরেন্ট থেকে।


ছবি : সিরাজ গোল্ডেন রেস্টুরেন্ট 
(Source : গুগল)

🔰 অষ্টমীর দিন সকালে বেরিয়ে কয়েকটি ঠাকুর দেখে চলে গেলাম খাওয়া-দাওয়া করতে। সেখানে খাওয়া-দাওয়ার পর গেছিলাম নন্দনে সিনেমা দেখতে। সেই নিয়ে আলাদা একটি ব্লগ আছে যার লিংক নীচে দেওয়া রইল।



ছবি : নন্দন চত্বরে আমি আর বারিন-দা


📛 অষ্টমীর দিন 'দশম অবতার' দেখার অভিজ্ঞতা জানতে অভিজ্ঞতা এই লিংকে ক্লিক করুন 👇


🔰 ময়দান স্টেশনে নেমে হাটতে হাটতে গল্পের ছলে এগিয়ে চললাম মল্লিকবাজারের উদ্দেশ্যে। আমার সাথে ছিল প্রিয় বারিনদা। এছাড়া সালমান এসে আমাদের সাথে যোগ দিল রেস্টুরেন্টের সামনে।

⚜️ রেস্টুরেন্টে পৌঁছানোর রাস্তা -

📛 শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার দিকে যে বাসগুলো যাচ্ছে, ওগুলো বাদ দিয়ে যে কোনও বাসে মল্লিকবাজার স্টপেজে নামতে হবে। অর্থাৎ যে বাসগুলো এক্সাইড (রবীন্দ্র সদন) যাচ্ছে বা পার্ক সার্কাস যাচ্ছে, সবই মল্লিকবাজারের উপর দিয়ে যায়। মল্লিকবাজার স্টপেজে নামতে হবে।
মেট্রোতে গেলে রবীন্দ্র সদনে নেমে বাসে মল্লিকবাজার অথবা ময়দান বা পার্ক স্ট্রিট নামলে হেটে মল্লিকবাজার মোড়ে আসতে হবে।
মল্লিকবাজার মোড়েই বাঁদিকে মাদার টেরেজা সরণীর উপর রেস্টুরেন্টটি অবস্থিত। 

🔰 গুগল ম্যাপ লোকেশন লিংক 


🔶️  সিরাজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪১ সালে। এইসময় মহম্মদ আরশাদ আলি এবং মহম্মদ হুসেন, বিহার থেকে কলকাতায় আসেন। এখানে তাদের দেখা হয় মহম্মদ সামসুদ্দিনের সঙ্গে। সামসুদ্দিন ছিলেন নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ-র খাস বাবুর্চির বংশধর। মূলত এনারা তিনজন মিলেই প্রতিষ্ঠা করেন সিরাজ রেস্টুরেন্ট। এরপর কয়েকদিন এই রেস্টুরেন্টের নাম তাজ হোটেল ছিল। পাকাপাকিভাবে, ১৯৫৬ সালে এই রেস্টুরেন্টের নাম হয় সিরাজ গোল্ডেন রেস্টুরেন্ট। 

🔷️  সিরাজ মটনের জন্য বিখ্যাত। সিরাজের বিখ্যাত খাবারের মধ্যে আছে মটন বিরিয়ানি, মটন রেজালা। এছাড়া এখানকার চিকেন চাপও খুবই নামকরা। আমরা দলে ছিলাম মোট তিনজন। আমরা অর্ডার করেছিলাম মটন বিরিয়ানি এবং তার সাথে ছিল চিকেন কড়াই। এর আগে শুরুতেই ছিল চিকেন টিককা কাবাব আর শেষপাতে ফিরনি।

🔰 প্রথমেই কাবাব খেয়ে মুখ ভালো হয়ে গেল। কাবাবের সাথে সস দিয়ে মাখা স্যালাড ছিল আর ছিল দুইরকমের চাটনি। স্যালাডটা খেতে ছিল দুর্দান্ত। আর সবুজ চাটনিটা দিয়ে কাবাবটা মাখিয়ে খেতে অসাধারণ লাগছিল। চিকেনের পিসগুলো ঠিকঠাক আর বেশ নরম ছিল। সুস্বাদু একটা আইটেম দিয়ে শুরু করলাম ভুঁড়িভোজন।

ছবি : চিকেন টিককা কাবাব 


🔰 এর পরে মেইন কোর্সে বিরিয়ানি। আমরা দুইরকমের বিরিয়ানি নিয়েছিলাম। একটা এমনি নর্ম্যাল মটন বিরিয়ানি ও অন্যটি স্পেশাল মটন বিরিয়ানি। স্পেশাল মটন বিরিয়ানিতে দু-পিস মটন থাকে আর এর সাথে একটা আলু ও একপিস ডিম থাকে।

🔶️ বিরিয়ানির স্বাদ নিয়ে কোনও কথা হবে না। তারসাথে পরিমাণ.... কোয়ান্টিটি নিয়ে কোনও কমপ্রোমাইজ কিন্তু একদমই নেই। স্বাদ অতুলনীয়। আলুটা বেশ নরম, ভেঙে খেতে সুবিধা হয়। মটনের পিস-টাও বেশ ভালো ছিল। মটন খুবই ভালো সেদ্ধ যেমন ছিল, তেমন খেতেও বেশ ভালো। একটু আলু আর মটন নিয়ে একমুঠো রাইস মুখে দেওয়া - উফফ আলাদাই স্বর্গীয় মুহুর্ত!!!



ছবি : মটন বিরিয়ানি


🔷️  বিরিয়ানির সাথে চিকেন কড়াই ছিল। এই আইটেমটারও রান্না ছিল ফ্যান্টাসটিক। আমাদের রাইস খেয়ে এতটাই পেট ভরে গেছে যে শেষে এক প্লেট চিকেন কড়াই শেষ করতে সমস্যায় পড়ে গেছিলাম। চিকেন কড়াই আইটেমটা বেশ কয়েক জায়গাতেই খেলাম। প্রধানত গ্রেভির স্বাদে একটু এদিক-ওদিক হয়। ঝালের একটু হেরফের ঘটে। কাছাকাছি সময়ের মধ্যে যে কয়েকটি জায়গায় চিকেন কড়াই খেয়েছি আলাদা করে কাউকে প্রথমে বসানো সত্যিকারেই সমস্যার। তাই সেই চেষ্টায় না গিয়ে, রান্নাতেই মজে থাকা শ্রেয়।


ছবি : চিকেন কড়াই 

🔶️  শেষপাতে ছিল ফিরনি। এই ফিরনিটা বরং বেশ অন্যরকম। আমার বেশ ভালো লেগেছে। আর্সালানের ফিরনির থেকেও বেশি ভালো। একটু ক্ষীরজাতীয় প্রভাবটা বেশিই রয়েছে, আর স্বাদের দিক থেকে প্রথমে... শেষ বলেই ছয় মারলাম।


ছবি : ফিরনি

⚜️  এই ছিল আমাদের বিভিন্ন খাবারের মানের চর্চা। তবে এর পাশাপাশি আইটেম গুলোর দাম সম্পর্কেও একটু ধারণা দিয়ে রাখার দরকার আছে। আমরা যেই খাবারগুলো নিয়েছিলাম, সেগুলির দাম নিম্নরূপ....

  • চিকেন টিককা কাবাব - ৩৫৫/-
  • মটন বিরিয়ানি - ৩৬৫/-
  • স্পেশাল মটন বিরিয়ানি - ৫৪৫/-
  • চিকেন কড়াই - ৩১০/-
  • ফিরনি - ৯৫/-

📛  পরিশেষে একটাই কথা। একবার হলেও ঢুঁ মেরে আসুন সিরাজে। ঠাণ্ডা পরিবেশ, নীলচে আলোর আভা, পরিস্কার রেস্টুরেন্টে যদি অমৃতের স্বাদ আস্বাদন করতে চান, চলে আসুন সিরাজ গোল্ডেন রেস্টুরেন্ট। 


ছবি : তিন মূর্তি



*-*-*-*-*-*-*

Comments

Popular posts from this blog

'সুরাবর্দী অ্যাভিনিউ'-এর সুরাবর্দী কে ? || Suhrawardy Avenue

দার্জিলিং জমজমাট || Darjeeling Tour || Sittong, Mungpoo, Takdah, Tinchuley, Lamahatta || Mirik, Lepchajagat ||

কাকা-ভাইপো যা, মামা-ভাগ্নেও তাই !!! || সুরাবর্দী অ্যাভিনিউ || Suhrawardy Avenue