দার্জিলিং জমজমাট || Darjeeling Tour || Sittong, Mungpoo, Takdah, Tinchuley, Lamahatta || Mirik, Lepchajagat ||
দার্জিলিং জমজমাট সাথে অফবিট
🔶️🔹️মে মাসের ছুটিতে সিটং, মংপু, তাকদাহ্, তিনচুলে ও লামাহাট্টা হয়ে দার্জিলিং আর লেপচাজগৎ, সীমানা ও মিরিক হয়ে ফেরা.......⛰️🏔🔸️🔷️
দিন-কয়েকের ছুটিতে ঘুরে এলাম দার্জিলিং থেকে। কলকাতায় প্রচণ্ড গরম, তাই এই গরমের হাত থেকে বাঁচতে, আর দৈনন্দিন জীবনের থেকে একটু আলাদা স্বাদ অনুভব করতে উত্তরে যাওয়াই ভালো। আমার দার্জিলিং তথা উত্তরবঙ্গে প্রথম যাওয়া... স্বভাবতই একটা আলাদা উত্তেজনা তো ছিলই। এতদিন পাহাড়ের ভিডিও কিংবা ছবিই দেখেছি, নতুনভাবে নিজের চোখে দেখার মজা যে কী সেটাও উপভোগ করব। এবার আসি আমাদের কয়েকদিনের যাত্রাপথের বর্ণনায়....
ছবি: দার্জিলিং-এর পাহাড় আর চা, ডেডলি কম্বিনেশন
🔰 হাওড়া থেকে বন্দে-ভারত করে বেলার দিকে পৌঁছে যাই নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। চা থেকে দুপুরের খাবার, ট্রেনেই বলা ছিল। নিউ জলপাইগুড়িতে আগে থেকেই পৌঁছে গিয়েছিল আমাদের গাড়ী। সেখান থেকে গাড়ীতে করে রওনা হলাম আমাদের হোমস্টে-এর দিকে। প্রথমে আমরা ছিলাম অফবিট জায়গাতে, সিটং। গাড়ীতে করে তিস্তার পাশ দিয়ে যেতে যেতে মন ভরে গেল। সেই অর্জুনের গল্প যখন পড়েছি, তিস্তার কথা শুনেছি; আর আজ সেই নদী চোখের সামনে।
🔷️ সিটং-এ যাওয়ার রাস্তা খুবই খারাপ, কয়েকটা জায়গা এমন আছে দুর্গম বলা যেতে পারে। যাইহোক, ড্রাইভার দাদার পারদর্শীতায় সব কিছু অতিক্রম করে চলে এলাম হোমস্টে। আর এসেই মন ভরে গেল। সারাদিনের ক্লান্তি এক নিমেষেই শেষ। কী অপূর্ব দৃশ্যপট চোখের সামনে বলে বোঝানো যাবে না....
ছবি: সিটং যাওয়ার পথে
🔶️ যেহেতু ট্রেনেই লাঞ্চ সারা হয়ে গিয়েছিল, তাই লাঞ্চের বদলে মোমো করতে বলা হয়েছিল। একটু পরে সান্ধ্যকালীন চা আর মোমো সহযোগে টিফিন করা হল। যথাসময়ে রাত্রে লাঞ্চ করে সেদিনের মতো শুয়ে পড়া। পরেরদিন ভোরে উঠে জানলা দিয়ে ভিউ দেখে মন জুড়িয়ে গেল। যথাসময়ে প্রাতরাশ করে বেরিয়ে পড়লাম Sightseeing-এর উদ্দেশ্যে।
👉 এইদিন আমরা গিয়েছিলাম কার্শিয়াং এর পথে.... যে যে জায়গাগুলো ঘুরে দেখলাম পরপর বলে যাই,
📛 চিমনি ভিলেজ: কার্শিয়াং-এর নিকটবর্তী চিমনি ভিলেজের নামকরণ হয়েছে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি বিশাল ইটের চিমনিকে কেন্দ্র করে। একসময় এখানে ইউরোপীয়দের একটি বিশ্রামাগার (Rest House) ছিল, যার অবশিষ্ট স্মৃতি বহন করে এই ঐতিহাসিক চিমনি। আজ সেই ইতিহাস, পাইন বনের নীরবতা আর হিমালয়ের অপার সৌন্দর্য্য মিলিয়ে চিমনি ভিলেজ উত্তরবঙ্গের এক অনন্য আকর্ষণ।
ছবি: চিমনি ভিলেজ
📛 ডাউ হিল: ডাউ হিল কার্শিয়াং-এর একটি ঐতিহাসিক পাহাড়ি অঞ্চল। ব্রিটিশ শাসনামলে এটি শিক্ষা ও বন-প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। ডাউ হিলের বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চলও ব্রিটিশদের বন ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আজও এই অঞ্চল তার ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, শিক্ষা-ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। ডাউ হিলের রাস্তা অত্যন্ত খাঁড়া। পায়ের উপর চাপ পড়তে বাধ্য। যাদের হাঁটাচলার অভ্যাস নেই, কিংবা শ্বাসের সমস্যা আছে তারা পারবে না।
⚜️ এখানে আর্বোরেটাম, চিলড্রেন্স পার্ক এবং একটি মিউজিয়াম আছে। একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছে ফরেস্ট মিউজিয়াম। মিউজিয়ামটা এককথায় দুর্দান্ত। দোতলা মিউজিয়ামে নীচের তলায় অগুন্তি গাছের কাঠের নিদর্শন আছে, এছাড়া গাছের ছালসহ বিভিন্ন উপাদান রয়েছে।
উপরের তলায় রয়েছে জীবজন্তুদের প্রতিলিপি। চামড়া অরিজিনাল, দেখলে মনে হয় একেবারে জ্যান্ত। এরকম প্রতিলিপি সাধারণত দেখতে পাওয়া যায় না।
ছবি: ফরেস্ট মিউজিয়াম, ডাও হিল
⚜️ ডাউ হিল নিয়ে অশরীরী কাহিনীর প্রচলন আছে। অনেকসময় নাকি গলা কাটা কোনও ছেলে অথবা সাদা চাদর জড়ানো কেউ পিছু নিচ্ছে এরকম মনে হয়। উঠেই কিছুটা দূরে বেশ কিছু ভৌতিক সাইন রয়েছে, যা এইসব মতবাদের পিছনে রোমাঞ্চ জোগায়....
ছবি: ডাও হিল
📛 ভিক্টোরিয়া স্কুল: ভিক্টোরিয়া বয়েজ স্কুল, কার্শিয়াং-এর ডাউ হিলে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী আবাসিক বিদ্যালয়। ১৮৭৯ সালে ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয় ও অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ছাত্রদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে। ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলী, পাহাড়ি পরিবেশ এবং দীর্ঘ শিক্ষাগত ঐতিহ্যের জন্য এটি আজও উত্তরবঙ্গের অন্যতম উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। আমরা যখন গিয়েছিলাম স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করতে বাধা ছিল। হয়তো বিশেষ কোনও কারণ হবে। জানা নেই। তাই বাইরে থেকেই ঘুরে নিলাম।
ছবি: ভিক্টোরিয়া স্কুলের সামনে
📛 হনুমান টপ: হনুমান টপ কার্শিয়াং এর মাথায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এখানে অবস্থিত হনুমান মন্দিরটি স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং পূর্ব হিমালয়ের বিস্তীর্ণ দৃশ্য উপভোগ করা যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং শান্ত পরিবেশের জন্য হনুমান টপ পর্যটকদের কাছে একটি বিশেষ আকর্ষণ।
🔰 পাহাড়ের উপর থেকে সুদৃশ্য কার্শিয়াং শহর যেন রূপকথা রচনা করে। এই পরিস্কার, আবার একটু পরেই কুয়াশাছন্ন; যেন খেলা করছে। অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার পর সেদিনের মতো ফিরে আসি আমাদের হোমস্টেতেই। আসার পর লাঞ্চ করে, হোমস্টের বারান্দা থেকে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করে ঘরে ঢুকলাম। সেদিন সন্ধ্যার সময় খানিক বৃষ্টি হল। বেশিক্ষণ নয়, কিন্তু ওই বৃষ্টিতেই ঠাণ্ডা কনকনে হয়ে গেল পরিবেশ। সান্ধ্যকালীন চা আর স্ন্যাক্স এর পর রাত্রে ছিল ফ্রায়েভ রাইস ও চিলি চিকেন।
ছবি: অনন্য সুন্দর কার্শিয়াং
🔶️ পরেরদিন ছিল দুর্দান্ত আবহাওয়া। আমরা সিটং-এ আসার পর বেস্ট ওয়েদার। চারিপাশ একদম পরিস্কার। রোদ ঝলমল আবহাওয়া। এককথায় দুর্দান্ত। ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে পড়লাম। হোমস্টে ছেড়ে চলে যেতে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু যেতে তো হবেই...
🔰 এদিন সিটং এর বিভিন্ন জায়গা দেখার পাশাপাশি, অন্যদিকেও যাওয়ার কথা ছিল। প্রথমে সিটং দিয়েই শুরু করলাম,
📛 আহলদারা ভিউ পয়েন্ট: আহলদারা ভিউ পয়েন্ট সিটং অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই ভিউপয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, তিস্তা উপত্যকা, কালিম্পং ও আশপাশের পাহাড়ি জনপদের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় লেপচা ভাষায় ‘দারা’ শব্দের অর্থ পাহাড়ের চূড়া বা উঁচু স্থান, সেখান থেকেই ‘আহলদারা’ নামের উৎপত্তি বলে মনে করা হয়। উঁচু খাড়া স্থান থেকে অনেকটা নীচে হেঁটে নামার জায়গা আছে। একদম শেষ মাথা থেকে অসাধারণ ভিউ পাওয়া যায়। সেখান থেকে তিস্তা নদী অসাধারণ লাগে দেখতে। নীচে না নেমে উপর থেকেও দেখতে পারা যায়। আবহাওয়া ভালো থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সম্ভাবনা প্রবল। আমরাও হালকা দেখতে পেয়েছি..... কুয়াশা একদম না থাকলে পরিস্কার দেখা যায়।
ছবি: আহলদারা ভিউ পয়েন্ট
📛 নামখিন পোখরি: নামখিন পোখরি সিটং-এর একটি প্রাকৃতিক হ্রদ ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ‘পোখরি’ শব্দের অর্থ জলাশয় বা হ্রদ। এই স্থানটি বিশেষভাবে পরিচিত বিরল হিমালয়ান সালামান্ডার সংরক্ষণের জন্য, যা ভারতের অতি বিরল উভচর প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম। পোখরির পাশ দিয়ে খাঁড়া পাইন গাছের জঙ্গল। উপরে অনেকটা উঠলে একটা মন্দির আছে। শিবের মন্দির। পোখরিতে প্রবেশের মুখে হনুমানের একটা স্ট্যাচু আছে..... এখানে পা ফেলতে হয় সাবধানে। জলজ পরিবেশ, রোদ কম ঢোকার জন্য একটু ভিজে ভিজে ভাব আছে...
ছবি: শিব মন্দির, নামখিন পোখরি
📛 I Love Sittong: ‘I Love Sittong’ পর্যটন কেন্দ্রটি সিটং অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় আকর্ষণ। ‘অরেঞ্জ ভিলেজ’ নামে পরিচিত সিটং তার বিস্তীর্ণ কমলালেবুর বাগান, মনোরম পাহাড়ি পরিবেশ এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত। এই ভিউপয়েন্টটি সিটং-এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে......
📛 সিটং মনাস্ট্রি: সিটং-এর আপার ঘায়লেতার অঞ্চলে অবস্থিত প্রায় ৩৫০ বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ মঠটির প্রকৃত নাম ‘Upper Ghayletar Longho Lepcha Buddhist Monastery' (আপার ঘালে লংহো লেপচা বৌদ্ধ মঠ)। লেপচা সম্প্রদায় পরিচালিত এই ঐতিহাসিক মঠটি একসময় লেপচা রাণীর বাসভবন ছিল বলে জানা যায়। মাটি ও বাঁশের নির্মাণশৈলী, প্রাচীন ঐতিহ্য এবং শান্ত পাহাড়ি পরিবেশের জন্য এটি সিটং-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান। এখান থেকে বেরোলাম যখন মন যেন শান্তিতে ভরে উঠল। চারিদিক হঠাৎই প্রবল কুয়াশাতে আচ্ছন্ন হয়ে উঠেছে।
👉 অরেঞ্জ গার্ডেন অর্থাৎ কমলালেবুর বাগান লিস্টে ছিল। কিন্তু এই সময় কমলালেবুর নয়। তাই লেবু দেখার চান্স নেই। কেবল বাগানের পাশ দিয়ে ঘুরে গেলাম।
👉 এরপর আমরা চললাম মংপু-র দিকে। পথে যেতে যেতে প্রথমেই এল,
📛 যোগীঘাট: যোগীঘাট দার্জিলিং জেলার সিটং অঞ্চলের একটি মনোরম নদীতীরবর্তী জনপদ। রিয়াং নদীর তীরে অবস্থিত এই স্থানটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ এবং ঐতিহাসিক জোগীঘাট সেতুর জন্য পরিচিত। সিটং, লাটপাঞ্চার ও মংপুর সংযোগস্থল হিসেবে যোগীঘাট দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
🔰 যোগীঘাট দেখে মংপু-তে প্রবেশ করলাম। প্রথমেই গেলাম এখানকার বিখ্যাত,
📛 রবীন্দ্র ভবন: মংপু-র রবীন্দ্র ভবন হল একটি ঐতিহাসিক বাংলো, যেখানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের শেষ পর্বে ১৯৩৮ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে একাধিকবার অবস্থান করেছিলেন। কবির ঘনিষ্ঠজন মৈত্রেয়ী দেবী ও তাঁর স্বামী ডা. মনমোহন সেনের আমন্ত্রণে তিনি এখানে আসতেন। মংপুর মনোরম পরিবেশে অবস্থানকালে কবি বহু রচনা সৃষ্টি করেন এবং তাঁর প্রাক্ ৮০তম জন্মদিনও এখানেই উদযাপিত হয়। বর্তমানে বাংলোটি ‘রবীন্দ্র ভবন’ জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে কবির ব্যবহৃত আসবাব, চিত্রকর্ম, পাণ্ডুলিপি ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে।
👉 রবীন্দ্র ভবন দেখে আমরা তাকদাহ্-র দিকে এগিয়ে যাই। তাকদাহ্-এর বিখ্যাত জায়গার মধ্যে অন্যতম,
📛 তাকদাহ্ অর্কিড সেন্টার: তাকদাহ্ অর্কিড সেন্টার উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহাসিক অর্কিড সংরক্ষণকেন্দ্র। ব্রিটিশ আমলের তাকদাহ্ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার এই উদ্যান আজও বিরল হিমালয়ান অর্কিড, ঔষধি উদ্ভিদ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাকদাহ্ একসময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ক্যান্টনমেন্ট ছিল এবং অর্কিড সেন্টারের বর্তমান এলাকা সেই ঐতিহাসিক পরিসরেরই অংশ। একসময় এটি এশিয়ার বৃহত্তম অর্কিড কেন্দ্রগুলির অন্যতম বলে পরিচিত ছিল। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই কেন্দ্র বিভিন্ন প্রজাতির হিমালয়ান অর্কিড, বিরল উদ্ভিদ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। এখানে অর্কিড কিনতে পাওয়া যায়। আর তার পাশেই আছে চায়ের দোকান। বিভিন্ন স্বাদের বিভিন্ন চা এখানে পাওয়া যায়....
👉 এখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর এখানকার চা খেলাম। লিকার চা ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা পছন্দ করি না। আবার চিনি ছাড়া! কিন্তু, এখানে চা খেয়ে সেই জায়গা থেকে সরতে বাধ্যই হলাম। বেশ সুস্বাদু চা, আর বিনা চিনির লিকার চা এখান যে অখাদ্য লাগে, সেটা অনেকটাই কাটানো গেছে। বেশ ভালো খেলাম।
🔷️ তাকদাহ্ থেকে পরবর্তী গন্তব্য তিনচুলের দিকে। তিনচুলে ভিউ পয়েন্ট না দেখে একেবারে গুম্বাদারা ভিউপয়েন্টে গিয়ে দাঁড়ালাম। এককথায় অভূতপূর্ব। অসামান্য দৃশ্যপট চোখের সামনে খুলে গেল..... অপূর্ব
📛 গুম্বাদারা ভিউপয়েন্ট, তিনচুলে: গুম্বাদারা ভিউ পয়েন্ট দার্জিলিং জেলার তাগদাহ্–তিনচুলে অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, তিস্তা উপত্যকা, কালিম্পং পাহাড়শ্রেণি এবং পূর্ব হিমালয়ের বিস্তৃত দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্যের জন্য ভিউ পয়েন্টটি বিশেষভাবে পরিচিত।
👉 এরপর আমরা গেলাম লামাহাট্টার দিকে। লামাহাট্টাতে দেখার জায়গা বলতে গেলে একটিই। ওই ইকো পার্ক। আমরা যখন পৌঁছালাম টিকিট আর দিচ্ছে না, বরং ফ্রিতেই ঘুরে এলাম। পাইন ফরেস্ট, বাগানে ভরপুর এই জায়গা।
📛 লামাহাট্টা ইকো পার্ক: লামাহাট্টা ইকো পার্ক দার্জিলিং জেলার লামাহাট্টা অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। ২০১২ সালের পর থেকে পরিবেশভিত্তিক পর্যটনের অংশ হিসেবে এই ইকো পার্কটি গড়ে তোলা হয়। ‘লামাহাট্টা’ শব্দের অর্থ ‘লামাদের আশ্রম’ বা ‘বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের নিবাস’। পাইন, ধুপি ও ওক গাছে ঘেরা এই পার্কে রয়েছে প্রার্থনার পতাকা, ওয়াচ টাওয়ার এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের মনোরম ভিউপয়েন্ট।
ছবি: লামাহাট্টা ইকো পার্ক
⚜️ লামাহাট্টা ইকো পার্কের উপরের অংশে একটি পবিত্র হ্রদ বা "Sacred Lake" রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে জোড়ে পোখরি নামেও পরিচিত। হ্রদটিতে পৌঁছাতে পার্কের মূল এলাকা থেকে প্রায় মিনিট পনেরো পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে হয়। স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি পবিত্র স্থান বলে বিবেচিত, তাই এর চারপাশে প্রার্থনার পতাকা দেখা যায়। আর একটু আগে আসতে পারলে হ্রদটা দেখে আসতে পারতাম। সেটা আর হয়ে উঠল না। শুধু বাগান দেখেই ফিরতে হল। তবে অনেক পর্যটক লামাহাট্টা ইকো পার্কে এসে শুধু বাগান ও ভিউপয়েন্ট দেখে ফিরে যান, কিন্তু Sacred Lake-এ উঠে গেলে লামাহাট্টার প্রকৃত সৌন্দর্য্যের আরেকটি দিক দেখা যায়।
🔰 লামাহাট্টা ইকো পার্কের পর গন্তব্য ছিল দার্জিলিং-এর হোটেল। সারাদিনের ঘোরাঘুরিতে এমনিতেই ক্লান্তি এসে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছে গেলে একটু রেস্ট নিয়ে বেরোবো। তবে জোড়বাংলোর পর থেকে জ্যামেই রইলাম আটকে। দশ-পনেরো মিনিটের রাস্তা নিচ্ছে প্রায় ঘন্টা তিনেক সময়। মারাত্মক জ্যাম। অবশেষে রাত ন'টার দিকে এসে পৌঁছালাম হোটেলে। একটু ফ্রেশ হয়ে আমি বেরিয়েছিলাম ম্যালে ঘুরতে। এসে লাঞ্চ করে সেদিনের মতো শুয়ে পড়ি।
ছবি: দার্জিলিং-এর বিখ্যাত গ্লেনারিজ এবং কেভেনটারস্
👉 দার্জিলিং-এ আমরা ছিলাম হোটেল স্যানড্রুপ-এ। শর্টকাট জানলে ম্যাল রোড থেকে একটুখানি। আমাদের হোটেলের পাশ থেকেই সিঁড়ি উঠে গেছে উপরে। ওটা ধরে খাঁড়া উঠে গেলে তিন-চার মিনিটে Keventure's এর মুখে। তবে শর্টকাট না জানলে ঘুরে আসলে একটু সময় লাগবে। ওই মিনিট দশেক। হোটেলের লোকেশন নীচে দেওয়া থাকল।
🔷️ দার্জিলিং-এ প্রচণ্ড কুয়াশা। সকালে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আবহাওয়া একটু পরিস্কার হতে হতে বেলা এগারোটা বেজে যাচ্ছে, তাও ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ভিউ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকছে না। আর এর দৌলতে মিস হয়ে গেল টাইগার হিলের থেকে সূর্যদয় দর্শন। দার্জিলিং-এর বাকি যে যে জায়গাগুলো দেখলাম সেগুলোই বলি,
📛 জাপানিজ্ টেম্পল: দার্জিলিং-এর জাপানিজ্ টেম্পল ১৯৭২ সালে জাপানি বৌদ্ধ সন্ন্যাসী Nichidatsu Fujii-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। শান্তি, অহিংসা ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের বার্তা প্রচারের উদ্দেশ্যে নির্মিত এই মন্দিরটি দার্জিলিং-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থান। সাদা রঙের মনোরম স্থাপত্য, প্রার্থনার সুর মন্দিরটিকে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ প্রদান করেছে।
ছবি: জাপানিজ্ টেম্পল
📛 পিস্ প্যাগোডা: দার্জিলিং পিস প্যাগোডা বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে নির্মিত একটি বৌদ্ধ স্তূপ। জাপানি বৌদ্ধ সংগঠন Nipponzan Myohoji-এর উদ্যোগে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৭২ সালে এবং সম্পূর্ণ হয় ১৯৯২ সালে। সাদা রঙের এই প্যাগোডার চারদিকে গৌতম বুদ্ধর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জাপানিজ্ টেম্পল এর পাশেই অবস্থিত এই স্থাপনা দার্জিলিং-এর অন্যতম জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান এবং শান্তি, অহিংসা ও মানবিক ঐক্যের বার্তা বহন করে।
📛 ঘুম মনাস্ট্রি: ঘুম মনাস্ট্রি, যার আনুষ্ঠানিক নাম Dunggon Samten Choling Bhuddhist Monastery, দার্জিলিংয়ের অন্যতম প্রাচীন তিব্বতি বৌদ্ধ মঠ। ১৮৫০ সালে মঙ্গোলীয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী Sokpo Sherab Gyatso এটি প্রতিষ্ঠা করেন। মঠের প্রধান আকর্ষণ প্রায় ১৫ ফুট উঁচু মৈত্রেয় বুদ্ধের (ভবিষ্যৎ বুদ্ধ) মূর্তি। প্রাচীন বৌদ্ধ পাণ্ডুলিপি, থাংকা চিত্রকলা এবং ধর্মীয় নিদর্শনের জন্য ঘুম মঠ দার্জিলিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
📛 বাতাসিয়া লুপ: বাতাসিয়া লুপ দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের একটি অনন্য প্রকৌশল নিদর্শন। ১৯১৯ সালে নির্মিত এই সর্পিলাকার রেলপথটি পাহাড়ি ঢালে ট্রেনের উচ্চতার পার্থক্য সহজে অতিক্রম করার জন্য তৈরি করা হয়। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, দার্জিলিং শহর এবং আশপাশের পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যুদ্ধস্মারকটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোরখা সৈনিকদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত। এখানে একটা সুন্দর ফুলের বাগান রয়েছে। চারপাশে যে রেলপথটি রয়েছে ওখানে টয় ট্রেন চলে। দূরবীন এর ব্যবস্থা আছে দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য। জনপ্রতি ৫০ টাকা। এছাড়া এই লুপে প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা।
ছবি: বাতাসিয়া লুপ
ছবি: টয় ট্রেন
📛 চিড়িয়াখানা: Padmaja Naidu Himalayan Zoological Park ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি ভারতের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত চিড়িয়াখানাগুলির অন্যতম। হিমালয়ের বিরল ও বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা এই উদ্যানটি বিশেষভাবে পরিচিত লাল পান্ডা, তুষার চিতাবাঘ, হিমালয়ান নেকড়ে এবং তিব্বতি নেকড়ের প্রজনন ও সংরক্ষণ কর্মসূচির জন্য। বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর মধ্যে আমাদের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারও ছিল। এক খাঁচায় দুটি। বাঘের গর্জন শুনলাম খুব কাছ থেকে। এখানকার খাঁচাগুলো বেশ নিকটে, আলিপুর চিড়িয়াখানার মতো অত দূরে নয়। তাই বেশ ভালো করে দেখা যায় প্রাণীদের। সবথেকে পছন্দের দৃশ্য ছিল হনুমানের তার বাচ্চাকে ঝোলানো প্র্যাকটিস করানো।
ছবি: চিড়িয়াখানা, দার্জিলিং
📛 HMI: চিড়িয়াখানার মধ্যেই রয়েছে বিখ্যাত Himalayan Mountaineering Institute (HMI). এরমধ্যে একটা মিউজিয়াম, ভিউ পয়েন্ট, পর্বতের থেকে চূড়াতে যাওয়ার প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। এককথায় অনবদ্য মিউজিয়ামটি দ্বিতল বিশিষ্ট। নীচের তলা ও উপরের তলা মিলিয়ে রয়েছে অসংখ্য দ্রষ্টব্য জিনিস। পাহাড়ে ওঠার সামগ্রী, পাহাড়ের জীবজন্তু ও তাদের বিবরণ, যারা বিভিন্ন পর্বতচূড়া আহরণ করেছেন তাদের সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য - সবকিছুই রয়েছে এই মিউজিয়ামে। মিউজিয়ামের ভিতরে ফটো তোলা নিষিদ্ধ।

ছবি: Himalayan Mountaineering Institute (HMI)
⚜️ আর একটি মিউজিয়াম রয়েছে বাংলার ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে। সেখানে বাংলার বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড় থেকে শুরু করে মৌমাছি, প্রজাপতি সকলের বিবরণ আর দ্বিতলে রয়েছে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর অবয়ব। তবে এই অবয়বগুলি অতটা নিখুঁত নয়। অনেকসময় বোঝা যায় যে বানানো হয়েছে। তবে বেশ কিছু আসল কঙ্কাল রয়েছে, যেগুলি এককথায় দুর্দান্ত।
ছবি: Bengal Natural History Museum
🔶️ এদিন দুপুরে খেয়েছিলাম বাতাসিয়া লুপের পাশেই অবস্থিত Santa Banta Dhaba & Restaurant-এ। বেশ ভালো খাবার। ভরপেট খাবার। দামও ভালো, মানও ভালো।
👉 বিকালের দিকে হোটেলে ফিরে এসে একটু বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যার পর মায়ের সাথে ম্যালে বেরিয়েছিলাম। ম্যালে ঘুরে, সামান্য কেনাকাটি করে ফিরে আসি হোটেল। আসার সময় মহাকাল হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট থেকে রাতের খাবার নিয়ে এসেছিলাম।
ছবি: Nepal Curio House
🔰 পরেরদিন ছিল আমাদের ফেরা। আমাদের ফেরা ছিল মিরিক হয়ে। সকালে ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে পড়েছিলাম। মিরিক হয়ে নিউ জলপাইগুড়ি ফিরব। ঘুমের পর ডানদিকের রাস্তা ধরে চললাম। যেতে যেতে পথে দেখতে লাগলাম,
📛 লেপচাজগৎ: দার্জিলিং থেকে মিরিক হয়ে ফেরার পথে প্রথমেই আসে লেপচাজগৎ। লেপচাজগৎ দার্জিলিং জেলার একটি শান্ত ও মনোরম পাহাড়ি গ্রাম, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,৯৫০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। লেপচা সম্প্রদায়ের বসতি থেকে এর নামকরণ হয়েছে। ঘন পাইন, ওক ও রডোডেনড্রনের অরণ্যে ঘেরা এই স্থানটি নির্মল পরিবেশ এবং প্রকৃতির নৈঃশব্দ্যের জন্য পরিচিত। এখানে একটি কাঠের সেতু রয়েছে যা এই স্থানের সৌন্দর্য্যের সাথে মানানসই। প্রবেশমূল্য ২০ টাকা জনপ্রতি।
ছবি: লেপচাজগৎ
📛 সীমানা ভিউ পয়েন্ট: সিমানা ভিউপয়েন্ট (Simana View Point) দার্জিলিং জেলার ভারত ও নেপাল সীমান্তের নিকটে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। ‘সিমানা’ শব্দের অর্থ সীমান্ত। এখান থেকে একদিকে ভারতের দার্জিলিং-এর পাহাড় এবং অন্যদিকে নেপালের ইলাম অঞ্চলের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

ছবি: সীমানা ভিউপয়েন্ট
📛 পশুপতি মার্কেট: পশুপতি মার্কেট ভারত ও নেপাল সীমান্তের নিকটে নেপালের ইলাম জেলার পশুপতিনগর এলাকায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় সীমান্ত বাজার। দার্জিলিং থেকে সিমানা হয়ে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। পোশাক, প্রসাধনী, হস্তশিল্প, গৃহসজ্জার সামগ্রী এবং নেপালি পণ্যের জন্য এই বাজার পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। সীমান্তবর্তী অবস্থান ও দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের কারণে পশুপতি মার্কেট দার্জিলিং ভ্রমণের অন্যতম জনপ্রিয় কেনাকাটার গন্তব্য। ট্যুরিস্টদের কাছে আইডি কার্ড থাকলেই অনেকসময় ঢুকতে দেয় বর্ডার ক্রস করে। তবে এদিন কোনও বিশেষ কারণে পাসপোর্ট ছাড়া কাউকেই ঢুকতে দিচ্ছিল না ওপারে। তাই বাইরে থেকে যেটুকু দেখা যায় দেখলাম।

ছবি: পশুপতি মার্কেট
📛 গোপালধারা চা-বাগান: গোপালধারা চা বাগান (Gopaldhara Tea Estate) দার্জিলিং জেলার অন্যতম সুপরিচিত ও উচ্চতম চা-বাগানগুলির একটি। ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাগানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,৫০০ থেকে ৭,০০০ ফুট উচ্চতায় বিস্তৃত। দার্জিলিং চায়ের উৎকর্ষের ইতিহাসে গোপালধারা একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। বিশেষ করে উচ্চভূমিতে উৎপাদিত ‘High Elevation Tea’ তার সূক্ষ্ম সুবাস, মৃদু স্বাদ এবং অনন্য গুণমানের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে সমাদৃত।
ছবি: গোপালধারা চা-বাগান
📛 মিরিক লেক: দার্জিলিং থেকে মিরিক হয়ে নিউ জলপাইগুড়ি যাওয়ার রাস্তার শেষ দর্শনীয় স্থান হল মিরিক লেক। ১৯৭০-এর দশকে মিরিককে পরিকল্পিত পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কৃত্রিম হ্রদটি তৈরি করা হয়। প্রায় ১.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লেকটি চারপাশের সবুজ পাহাড়, পাইন বন এবং চা-বাগানের সৌন্দর্যকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে। লেকের একপাশে রয়েছে ঘন পাইন বন এবং অন্যপাশে সুন্দরভাবে সাজানো উদ্যান ও পর্যটন অবকাঠামো। হ্রদের উপর নির্মিত প্রায় ৮০ ফুট দীর্ঘ ইন্দ্রেনী সেতু (Rainbow Bridge) মিরিকের অন্যতম পরিচিত নিদর্শন, যা লেকের দুই তীরকে সংযুক্ত করেছে। নৌবিহার, ঘোড়ায় চড়া, প্রকৃতি ভ্রমণ এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরবর্তী দৃশ্য উপভোগের জন্য মিরিক লেক পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এখানে অসংখ্য কেনাকাটার জায়গা, খাবার দোকান রয়েছে। চাইলে এখানে দুপূরের খাবার খেতে পারেন। বিশেষ দ্রষ্টব্য, আমরা ব্যানার্জীর পোস্ত নাম দেখে একটা দোকানে দুপুরের বাঙালি খাবার খেয়েছিলাম। কিন্তু পোস্ত একেবারেই ভালো নয়। আর নন ভেজ এর মধ্যে ডিম ছাড়া বাকি কোনোটাই উচ্চমানের নয়। আমি অন্তত সাজেস্ট করব না এখানে যাওয়ার জন্য।
পার্কিং এর নিয়ম এখানে বেশ আলাদা। প্রতি ঘন্টায় ৫০ টাকা করে চার্জ করে। অন্যান্য জায়গার মতো কোনও ফিক্সড রেট নয়।
ছবি: মিরিক লেক
👉 এরপর মিরিক লেক থেকে সোজা নিউ জলপাইগুড়ি। এই পথেই পড়ে দুধিয়া। এখানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ব্রিজটা ভেঙে গিয়েছিল। এখন পাশ দিয়ে গাড়ি যাওয়ার একটা রাস্তা করে দিয়েছে। যাইহোক, দুধিয়াতে দাঁড়ানো হল। এখানে কিছুক্ষণ সময় কাটালাম, ফটো তুললাম। চাইলে এখানে পিকনিক করতে পারেন, স্নান তো অনেকেই করেন। খুবই শান্তিপূর্ণ জায়গা, ভালো জায়গা। হাতে কিছুটা সময় থাকায়, এখানে কিছুক্ষণ থেকে অবশেষে সোজা নিউ জলপাইগুড়ি।
ছবি: দুধিয়া
🔱 এই ছিল আমাদের কয়েকদিনের দার্জিলিং ভ্রমণ। একে এদিকের তীব্র গরম, তার উপর প্রথমবার উত্তরবঙ্গে যাওয়া; এখানকার স্বাদ অনুসন্ধান করা, এক তৃপ্তির বিষয়। খুব আনন্দে কাটল কয়েকটা দিন। মজায় কাটল।
এত বড় লেখার থেকে ছোটো করে শুধু ঘোরার স্পটগুলো বলে রাখি,
🔰 কার্শিয়াং: চিমনি ভিলেজ, ডাও হিল, ফরেস্ট 🔰মিউজিয়াম, ভিক্টোরিয়া স্কুল, হনুমান টপ
🔰সিটং: আহলদারা ভিউ পয়েন্ট, নামখিন পোখরি, I Love Sittong, সিটং মনাস্ট্রি, (অরেঞ্জ গার্ডেন)
🔰মংপু: যোগীঘাট, রবীন্দ্র ভবন
🔰তাকদাহ্: অর্কিড সেন্টার
🔰তিনচুলে: তিনচুলে ভিউ পয়েন্ট, গুম্বাদারা ভিউপয়েন্ট
🔰লামাহাট্টা: লামাহাট্টা ইকো পার্ক
🔰দার্জিলিং: জাপানিজ্ টেম্পল, পিস প্যাগোডা, ঘুম মনাস্ট্রি, বাতাসিয়া লুপ, চিড়িয়াখানা, HMI
🔰দার্জিলিং থেকে মিরিক: লেপচাজগৎ, সীমানা ভিউ পয়েন্ট, পশুপতি মার্কেট, গোপালধারা চা-বাগান, মিরিক লেক
🔶️ আমরা যেখানে ছিলাম ও গাড়ী সব ডিটেইলস নীচে দিলাম:
⚜️ Sittong হোমস্টে: Nature Trails Homestay
Contact No.: 9836144133 (Koushik Chowdhury)
⚜️ Darjeeling Hotel: Hotel Sandrup
Contact No.: 9734128223 (Mrinal Ganguly)
⚜️ গাড়ী: 9800040906 (Subhasree Mondal)
🔱 আমি এইসবগুলোই বুক করে গেছি Travel Trendz এর মাধ্যমে। একসাথে পুরোটা বুক করে দিতে পারবেন এখানে যুক্ত Soumen Barua. কোনও অতিরিক্ত চার্জ নেই। Contact No.: 8282965255
তাহলে ঐ, আবার অপেক্ষা.......⛰️🧡
#Sittong #Mungpoo
#Takdah #Tinchuley
#Lamahatta
#Darjeeling
#Lepchajagat #Mirik

























Comments
Post a Comment