Karim's Hatibagan (করিমস্)

করিমস্-এ কীর্তি 

পুজোর খাওয়া-দাওয়ার মধ্যে একটা আলাদাই আমেজ থাকে। রেস্টুরেন্টে নাম লিখিয়ে অপেক্ষা আর তারপর ডাক আসবে, সবাই তাড়াতাড়ি ছুটে যাব - এটাই যেন পুজো ফিলিং এর অন্য নাম।

🔷️করিমস্-এ এর আগে খেয়েছি। উত্তর কলকাতার হাতিবাগানে কয়েকবছর হল দিল্লির প্রখ্যাত রেস্টুরেন্ট এর ব্রাঞ্চ খুলেছে। এবার আমরা কয়েকজন গিয়েছিলেন ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যাবেলা। দুপুর থেকে অসংখ্য জায়গায় ঘুরে, ঠাকুর দেখে অবশেষে সন্ধ্যার সময় চলে এলাম এখানে। নাম লিখিয়ে আধঘন্টা থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট অপেক্ষা, আর তারপর সুযোগ আসলো আমাদের।



ছবি : গুগল 

📛  কীভাবে যাবেন ?

📛 শোভাবাজার মেট্রো থেকে নেমে গ্রে স্ট্রিট ধরে হাতিবাগানের দিকে আসতে গেলে ডানহাতে পড়বে। হাতিবাগান মোড় থেকে শোভাবাজারের দিকে যেতে হলে বামহাতে।

🔰 গুগল ম্যাপ লোকেশন লিংক : 



🔶️ এখানকার বিরিয়ানির স্বাদ অসাধারণ। এছাড়া করিমস্-এর চিকেনের বিভিন্ন পদ বেশ ভালোই তৈরি করে। বিরিয়ানি, কাবাব, বিভিন্ন সাইড ডিশ, ফিরনি, রুটি সবকিছুই ভালোই তৈরি করে করিমস্। আমরা অর্ডার করেছিলাম, মটন বিরিয়ানি, চিকেন কড়াই, চিকেন জাহাঙ্গিরী, নান রুটি আর ফিরনি।

🔷️ এর আগে করিমস্-এ যখন বিরিয়ানি খেয়েছি, ওনারা হাঁড়িতে করে পরিবেশন করতেন। এবার দেখলাম, আর্সালানের মতোই থালাতেই সার্ভ করলেন। আর আগের সেই হাঁড়ির পাত্রে মারাত্মক পরিমাণে থাকত। একটা বিরিয়ানি দুজনে খেতে হয়েছে এরকম ব্যাপার ছিল। এবারে সেইসব বিষয় নেই যদিও। থালাতেই যেহেতু সার্ভ করছেন, স্বভাবতই পরিমাণটাও কমেছে। তাই কোয়ান্টিটির দিক থেকে যদি বলা হয়, আমি হতাশ। যেইরকম মারাত্মক দাম নেওয়া হচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এটা চলে না। আবার এর পাশাপাশি কোয়ালিটি বা স্বাদের কথা বললে, আমার বেশ ভালোই লেগেছে। স্বাদ ভালোই আছে, পুজোর চাপে হয়তো একটু পরেছে, কিন্তু তাও ভালো। তবে ভালো স্বাদের সাথে পরিমাণে কম দিয়ে অনেকটা দাম রাখা ঠিক নয়। জানিনা, পুজো বলেই আর প্রচণ্ড চাপ বলেই এই ব্যবস্থা কিনা! তবে এটা হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।


ছবি : মটন বিরিয়ানি

🔶️ আমাদের পরবর্তী আইটেম জাহাঙ্গিরী চিকেন। এই আইটেম আগে খেয়েছি। তখন বেশ ভালো লেগেছিল। কিন্তু এবার একদম জমাতে পারেননি। ঝোলটা বড্ড পাতলা করে ফেলেছে, আর টেস্টটাও ঠিক আসেনি। এই আইটেমটা খেয়ে এবারে একদমই হতাশ।


ছবি : জাহাঙ্গিরী চিকেন 

🔷️ আর একটি যে আইটেম ছিল, চিকেন কড়াই, সেটা বেশ ভালো। স্বাদ বেশ ভালো, একটু টকটক ব্যাপারও ছিল। যারা একটু স্পাইসি পছন্দ করেন খেতে, তাদের বেশ ভালো লাগবে। এটা সত্যিই পয়সা উশুল হল বলা যেতে পারে।



ছবি : চিকেন কড়াই

🔶️ নান রুটি আমি খাইনি বলতে গেলে, তাই খুঁটিনাটি মন্তব্য করা ঠিক নয়। তবে আমার বন্ধুরা যারা খেয়েছে, তাদের ঠিকঠাক লেগেছে বলল। 


ছবি : নান রুটি

🔷️ সর্বশেষ আইটেম ফিরনি। এইটাই হল মওকা মে ছক্কা। না, আমরা অবশ্য ছয় খেয়ে গেছি। স্বাদ নিয়ে কিছু বক্তব্য নেই। স্বাদ খুবই ভালো। তবে ওনারা যা দাম হাঁকিয়েছেন, সেটা অবাস্তব। অন্ততপক্ষে ৬০ টাকা করে বেশি নিয়েছেন বলে আমাদের মত এবং সেটা যে খুব একটা ভুল নয় তারও কারণ আছে। অন্যান্য বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খেলে বুঝতে পারবেন যে পুজোর বাজারে কী ভালো ব্যাটটাই না করিমস্ করছে!


ছবি : ফিরনি

🔰 আমাদের খাবারগুলোর দাম গুলোও দেওয়া থাকল, যদি কারোর দরকার লাগে,

⚜️ মটন বিরিয়ানি : ৩৫০/-
⚜️ জাহাঙ্গিরী চিকেন : ৪৯০/-
⚜️ চিকেন কড়াই : ৪৫০/-
⚜️ নান রুটি : প্রতি পিস্ ৩০/-
⚜️ ফিরনি : ১৩০/-


ছবি : Karim's Pujo Special Menu Card

📛 সবমিলিয়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতা মোটামুটি ঠিকঠাক। একটা পদ, জাহাঙ্গিরী চিকেন বাদ দিলে, বাকি আইটেমগুলো বেশ ভালো। তবে পুজোর বাজারে, মানুষকে এতটা না লুটলেই ভালো। মানুষ কয়েকটা দিন আনন্দ করবে, মজা করবে, সেটার সুযোগ যেন কেউ না নেয় সেটাই দেখার বিষয়। করিমস্ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ভালো, সেই ভালোটাই যাতে বজায় থাকে সেই চেষ্টাই করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। বাকি আর কী!? পুজোর বাকি কয়টা দিন ভালো কাটুক 😃


ছবি : Special Four


#পুজোর_খাওয়া-দাওয়া (পর্ব - ২)
#শারদীয়া_১৪৩০

🔸️ ২০.১০.২০২৩

Comments

Popular posts from this blog

'সুরাবর্দী অ্যাভিনিউ'-এর সুরাবর্দী কে ? || Suhrawardy Avenue

দার্জিলিং জমজমাট || Darjeeling Tour || Sittong, Mungpoo, Takdah, Tinchuley, Lamahatta || Mirik, Lepchajagat ||

কাকা-ভাইপো যা, মামা-ভাগ্নেও তাই !!! || সুরাবর্দী অ্যাভিনিউ || Suhrawardy Avenue