Bachan's Dhaba (কালীঘাট)
কলকাতার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খেয়ে দেখার যে ইচ্ছার কথা আগেই বিভিন্ন লেখাগুলোতে বলেছিলাম, সেই তালিকাতেই সংযোজিত হল দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট মেট্রোর কাছাকাছি Bachan's Dhaba. কেমন লাগল এখানকার খাবার আর কীরকমই বা অভিজ্ঞতা হল, সেই বিষয়টাই তুলে ধরলাম এই লেখাতে।
📛 যাদবপুরের কয়েকজন বন্ধুর সাথে বেরিয়েছিলাম দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুর দেখতে। আমরা বেরিয়েছিলাম তৃতীয়ার দিন। দুপুরের দিকে বেরিয়ে বেশ কয়েকটা জায়গায় ঘুরে অবশেষে ভুঁড়িভোজের জন্য সবাই উদগ্রীব হয়ে ছিলাম। তাই চলে এলাম আগে থেকে ভেবে রাখা রেস্টুরেন্ট Bachan's Dhaba-তে।
📛 Bachan's Dhaba রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে প্রথমে বলে নেওয়া যাক। রেস্টুরেন্টটি রাসবিহারী মোড়ের কাছেই অবস্থিত। কালীঘাট মেট্রো থেকে নেমে রাসবিহারী রোড ধরে চেতলার দিকে কিছুটা এগোলেই ডানদিকে পড়বে।
📌 গুগল ম্যাপ লোকেশন লিংক 👇
🔱 রেস্টুরেন্টটির নীচ তলা নন-এসি। আমরা দ্বিতীয় তলাতে উঠে এলাম। এখানে বাতানুকুল যন্ত্রের ব্যবস্থা আছে। দোতলাতে উঠে ডানদিকে চলে যাচ্ছে খাওয়ার জায়গা। বামদিকে হাত ধোয়া এবং টয়লেট রয়েছে। টয়লেটটি লিঙ্গ নির্দিষ্ট নয়। এছাড়া জল নিয়ে পান করার ব্যবস্থাও আছে। অসংখ্য গ্লাস রয়েছে। সেখান থেকে গ্লাস নিয়ে জল খেয়ে গ্লাস রেখে দিতে হয়। তবে একটাই সমস্যা, এই তিনটি ব্যবস্থাই একটাই ঘরে রয়েছে বলতে গেলে। এই জিনিসটা মোটেও হাইজিনিক নয়। এছাড়াও বেসিন ও মেঝে যথেষ্ট অপরিস্কার। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।
🔱 আমরা ছিলাম দলে মোট ছয়জন। এক কোনায় ছয় জনের টেবিলে বসে পড়লাম সবাই। হাসি-ঠাট্টা মজা সবই চলতে লাগল সাথে। ছবি তোলা হল বেশকিছু।
🔱 এবারে খাবার অর্ডার দেওয়ার পালা। ওনারা এখন পুজো স্পেশাল মেনুকার্ড দিয়েছেন। আইটেম একই, দাম একটু বাড়িয়েছেন পুজো উপলক্ষে। বিভিন্ন রকমের খাবারই পাওয়া যায় এখানে, যেমন বিরিয়ানি, চিকেনের বিভিন্ন পদ, মটনের বিভিন্ন পদ, রুটি, তড়কা, মিষ্টিমুখের বিভিন্ন পদ, ঠাণ্ডা পানীয় সবই মোটামুটি অ্যাভেলেবল। আমরা অর্ডার করেছিলাম, মটন বিরিয়ানি, চিকেন বিরিয়ানি, চিকেন টিককা বাটার মশালা, চিকেন কড়াই এবং ফিরনি।
ছবি : বিরিয়ানি ও চিকেনের বিভিন্ন পদ
এবারে খাবারের পরিমাণ ও স্বাদের প্রসঙ্গে আসা যাক-
🔰 ওনাদের স্পেশাল বিরিয়ানির অপশন থাকায় আমরা দুটো স্পেশাল মটন বিরিয়ানি ও একটি মটন বিরিয়ানি আর একটি চিকেন বিরিয়ানি নিয়েছিলাম। শান্তনুর জন্য চিকেন বিরিয়ানি আর অর্ণবের মটন বিরিয়ানি। বাকি আমরা চারজন ওই স্পেশাল দুটো মটন বিরিয়ানি ভাগ করে নিয়েছিলাম। বিরিয়ানি পরিমাণ ঠিকঠাক। তবে বিরিয়ানির স্বাদ মধ্যমমানের। খুব ভালো না, খারাপও না। মটন সেদ্ধ হয়েছিল ভালোই। রেওয়াজি মটনের পিস দিয়েছিলেন ওনারা। তবে স্বাদ আহামরি কিছু নয়।
🔰 চিকেন টিককা বাটার মশালা, এই পদটাই ছিল সবথেকে ভালো। যেমন স্বাদ, তেমনি দেখতেও ছিল যথেষ্ট ভালো। বলতে গেলে এই পদটা দিয়েই আমরা সবাই বিরিয়ানিটা খেলাম। আমরা আট পিসের ডিশ-টা নিয়েছিলাম।
🔰 পরবর্তী পদে ছিল আসল ভুল। আমরা চিকেন কড়াই অর্ডার করেছিলাম, কিন্তু আমাদের সার্ভ করা হয় চিকেন ভর্তা। এটা হয়ে সবাই হিসাব করে চেখে দেখতে পেরেছি ঠিকই, তবে রেস্টুরেন্টের ওয়েটারের ভুলটা থেকেই যাবে। ভর্তার স্বাদও ছিল তথৈবচ। এত খারাপ চিকেন ভর্তা আমি খাইনি এর আগে। চিকেনের 'চ' তো খুঁজেই পেলাম না, কেবল গ্রেভিই রয়েছে যেন। একটা অর্ধেক ডিমও ছিল ওর মধ্যে। মোটামুটি এই পদটা খাওয়া পুরো পয়সা জলে যাওয়ার কেস হল। প্রসঙ্গত বলে রাখি, চিকেন কড়াই আর চিকেন ভর্তার মূল্য একই।
🔰 আমাদের সর্বশেষ আইটেম ছিল, ফিরনি। যদিও এটা সবাই খায়নি। আমি আর অর্ণব খেয়েছিলাম কেবল। এটা মোটামুটি ঠিকঠাক। দামটাও এখন বাজারে যা দাম চলছে, সেইরকমই প্রায়।
ছবি : ফিরনি
📛 এরসাথে কয়েকটা জিনিস বলার দরকার আছে। খাবারের পরিবেশন অত্যন্ত জঘন্য। আমরা যে স্পেশাল বিরিয়ানি অর্ডার করেছিলাম, সেটা ওনারা আমাদের দেখে বা না দেখে (সঠিক বলা যাবে না) দুটো আলাদা প্লেটে নিজেরাই ভাগ করে দিয়েছিলেন। এইটা ঠিক আছে, কিন্তু যেভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছেন তা অত্যন্ত খারাপ নিদর্শন। আমরা বাড়িতেও এরকম করে খাবার পরিবেশন করি না, তাই এই জিনিসগুলো বড্ড চোখে লাগে। যেভাবে খুশি দিয়ে দিলেই লোকে খেয়ে নেবে না, প্রথমত লোকে পয়সা দিয়ে খাচ্ছে আর খাওয়া হল একটা আত্মতৃপ্তির বিষয়। এখানে যে ছবিগুলো দেখছেন সেগুলো খাবারগুলোকে নিজেরা গুছিিয়ে নেওয়ার পরের অবস্থা। আগের ছবিটা তোলা থাকলে ভালো হত। এইসব বিষয়ে একটু রুচিসম্মত হওয়ার প্রয়োজন আছে।
🔰 সবমিলিয়ে মধ্যমমানের অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলাম এই রেস্টুরেন্ট। আমার তালিকাতে One Time Visit হিসাবেই রয়ে গেল।
🔔 রেটিং : ৫/১০
#পুজোর_খাওয়াদাওয়া (পর্ব - ১)
#শারদীয়া_১৪৩০
🔸️ ১৯.১০.২০২৩
Comments
Post a Comment