Nikhoj / নিখোঁজ (Part 1) (২০২৩) (বাংলা ওয়েবসিরিজ - Hoichoi)
ওয়েবসিরিজ : নিখোঁজ
পরিচালনা : অয়ন চক্রবর্তী
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম : হইচই (HOICHOI)
সিজন : ১ (এপিসোড ১-৬)
হইচইতে সম্প্রতি রিলিজ করেছে 'নিখোঁজ' নামের ওয়েবসিরিজটি। এটা প্রথম পর্ব অর্থাৎ, এই সিজনে গল্প শেষ হয়নি। পরবর্তীতে আরও একটি বা একাধিক পর্ব আসতে চলেছে। সিরিজের নাম থেকে বোঝাই যাচ্ছে যে কেউ বা কিছু এখানে হারিয়ে গেছে আর তাকে খুঁজে বের করাই হল সিরিজের মূল প্রেক্ষাপট।
এইরকম বিষয়ের উপর একটি চলচ্চিত্র এর আগে দেখেছিলাম। চলচ্চিত্রটির নাম ছিল 'খোঁজ'। যদিও সেখানে গল্পের গঠন এবং শেষ অংশটা ছিল একটু অন্যরকম। এই ওয়েবসিরিজটির ক্ষেত্রে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায় কিনা সেটাই দেখা যাক বরং…😅
🔰 গল্পটি একটি মেয়ের হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে। ঘটনাচক্রে সেই মেয়েটি যার নাম দিতি, ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের মেয়ে। ঘটনার তদন্ত করতে নেমে সামনে আসে যে, যেই রাত্রে মেয়েটি হারিয়ে যায় সেই রাতে সে কয়েকজন বন্ধু ও শিক্ষিকা এবং পরিচিতদের সাথে পার্টি করছিল। পার্টি থেকে অফিসের বসের সাথে এক গাড়িতে করে ফেরার পথে মেয়েটি নিখোঁজ হয় এবং সেই বসকে গোলপার্কের রাস্তার মাঝখানে একটি গাড়ির মধ্যে রক্তমাখা ও অচৈতন্য অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। গল্পের শুরু এখানেই। এরপরেই টুকটাক বিভিন্ন জায়গায় খোঁজা আর তদন্ত নিয়ে গোটা সিজনটা এগিয়েছে।
🔰 এই সিজনে কিছুই খুঁজে পাওয়া যায় নি, না মেয়েটি উদ্ধার হয়েছে, না তাকে যারা সরিয়েছে তাদের খোঁজ পাওয়া গেছে। গল্পের প্রধান গল্পই এখনও দেখানো হয়নি, ডিসিপিকে কী বলল রোমিত সেন তারই একটা ঝলক দেখিয়ে সরিয়ে রাখা হল। অর্থাৎ, সিরিজের মাখন পরের সিজনেই দেখানো হবে বা দেখানোর একটা সুযোগ আছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। সুতরাং, কয়েকদিন পরেই পরবর্তী সিজন আসছে।
🔰 লালবাজারের ফরেন্সিক ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তনী হিসাবে মহেন্দ্র গুপ্ত (পরান বন্দ্যোপাধ্যায়) চরিত্রটিকে দেখানো হয়েছে। ক্ষুরধার বুদ্ধি সম্পন্ন লোকটি বারো বছর আগে অবসর নেওয়ার পর বছরদুয়েক হল নতুন কাজ করছেন। আগে পুলিশের কাজ করেছেন, এখন জনগণের হয়ে কাজ করছেন। চরিত্রটিকে একটা ইন্ট্রো দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই গল্পে তার কী ভূমিকা সেই সম্পর্কিত তথ্য সামনের পর্বে দেখার সুযোগ থাকবে বলেই ধরে নেওয়া যায়।
🔰 আর একটি চরিত্র, সাহানার ব্যক্তিগত জীবনের পুরোনো কথা এই কেসের সঙ্গে কীভাবে জড়িত তা বোধগম্য হল না। পরানবাবুর ক্ষেত্রে একটা লিংক যদিও বা পাওয়া যায়, এক্ষেত্রে তাও যায় না।
🔰 স্বস্তিকা মুখার্জী অভিনয় করেছেন ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ, ডিটেক্টিভ ডিপার্টমেন্ট এর চরিত্রে। মুখ্যত, এই সিরিজের প্রধান চরিত্র তিনি। আসল গল্প তার তদন্ত করা নিয়েই এগিয়েছে। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের ভূমিকায় স্বস্তিকার অভিনয় একদম ভালো লাগেনি। একজন উচ্চপদস্থ অফিসারের মোলায়েম হাত বুলানো আচরণ চলে না। আমার কাছে প্রধান ড্র-ব্যাক লেগেছে তার গলার স্বর। একটু গাম্ভীর্য থাকলে চরিত্রটার দাপট যতটা বোঝা যেত সেই ব্যাপারটাই মিসিং এখানে।
🔰 মূল অভিযুক্ত রমিত সেনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন টোটা রায়চৌধুরী। তার খুব বেশি রোল ছিল না এই পর্বে। নব্বই শতাংশ কাজ কেবল জেরা সামলানো বলা চলে। তবে যেটুকু স্ক্রিন প্রেজেন্স ছিল, আলাদা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। হয়তো পরের পর্বে আরও অনেক কিছু দেখাই আমাদের প্রাপ্য হয়ে রইল।
🔰 রমিত সেনের স্ত্রীর ভূমিকায় আছেন কনীনিকা ব্যানার্জী। ওনারা বাইশ বছরের দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন। তবে এই দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের পরেও কী তাদের মাঝে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়নি!? নাহলে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই কেবল অভিযুক্ত হওয়ার দরুণেই প্রকাশ্যে স্বামীকে থাপ্পড় বা সম্পর্ক ছেদনের আগে হয়তো একবার ভেবে দেখতেন….
📛 অন্যদিকে কী আজকাল ছেলেমেয়েরা একটা সামান্য প্রেমে ছ্যাঁকা খেলেই কী সুইসাইডের মতো একটা সহজ সলুউশান বেছে নেওয়াকেই শ্রেয় মনে করে!? ভালো করে গোঁফের রেখা ওঠেনি, তারাও কমফোর্ট জোনের পাঠ দিচ্ছে! আমি নিজে আজকালকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে থেকেই বিরাজ করি, আর আমার নিজেরই এটাই প্রশ্ন। হয়তো আমি একটু প্রাচীনপন্থী।
🔱 এই পর্বে দুটি গান আছে। দুটিই গেয়েছেন রূপম ইসলাম। একটি গান 'নিখোঁজ তুই' মূল টাইটেল সং। প্রতিটি এপিসোডের শুরুতেই চলছে। এই গানটি বেশ ভালো। অন্য গানটি হল 'আসবে বলে'। এটিও খুব একটা খারাপ লাগেনি।
Comments
Post a Comment