কী করে কলকাতা হল - পূর্ণেন্দু পত্রী
বইয়ের নাম : কী করে কলকাতা হল

📛 প্রথমেই যেহেতু বললাম যে এই বইটা ছোটদের জন্য লেখা, তাই এখানে কোনো বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ ডিটেইলস্ তথ্য নেই। কিন্তু কলকাতার জন্মের সব কথাই লেখা হয়েছে এবং সব বিষয়কেই ছুঁয়ে গেছেন লেখক। ১৪৯৮ সালে ভারতের কালিকট বন্দরে ভাস্কো ডা গামার আগমনকাল থেকে শুরু করেছেন লেখক। সেখান থেকে পর্তুগীজরা কীভাবে দক্ষিণ ভারত আর তারপর বঙ্গদেশে এসে ছড়িয়ে পড়ল তার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছেন।

লেখক : পূর্ণেন্দু পত্রী
বর্তমানে মূল যে বইয়ের অংশ : কলকাতা সমগ্র ১
প্রকাশনী : দেজ্ পাবলিশিং
মুদ্রিত মূল্য : ৫০০/-
📌পূর্ণেন্দু পত্রীর জন্ম হয় হাওড়ার শ্যামপুরে। তিনি ছিলেন একধারে কবি, সুলেখক, অঙ্কনশিল্পী, চিত্র পরিচালক। প্রধানত কবিতা আর বিভিন্ন গল্পের জন্য তিনি আজও বিখ্যাত। তার কলকাতা সংক্রান্ত প্রবন্ধগুলি অসামান্য। এগুলি কেবল লেখাই নয়, এক একটা জীবন্ত দলিল।
🔆লেখক পূর্ণেন্দু পত্রী রচিত 'কী করে কলকাতা হল' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। এই বইটি আসলে ছোটদের জন্য লেখা, বর্তমানে আউট অফ প্রিন্ট। সম্পূর্ন বইটিকে দেজ্ থেকে প্রকাশিত কলকাতা সমগ্র এর প্রথম খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ছবি : গুগল থেকে সংগৃহীত
📛 প্রথমেই যেহেতু বললাম যে এই বইটা ছোটদের জন্য লেখা, তাই এখানে কোনো বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ ডিটেইলস্ তথ্য নেই। কিন্তু কলকাতার জন্মের সব কথাই লেখা হয়েছে এবং সব বিষয়কেই ছুঁয়ে গেছেন লেখক। ১৪৯৮ সালে ভারতের কালিকট বন্দরে ভাস্কো ডা গামার আগমনকাল থেকে শুরু করেছেন লেখক। সেখান থেকে পর্তুগীজরা কীভাবে দক্ষিণ ভারত আর তারপর বঙ্গদেশে এসে ছড়িয়ে পড়ল তার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছেন।
📛এরপর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন, তাদের অনেক কষ্ট করে সুরাটে বাণিজ্যকুঠি গঠনের অনুমতি অর্জন করার কথা আছে। এরপর ধীরে ধীরে বঙ্গে ইংরেজদের প্রবেশ। তারপর সেখানে বাংলার নবাব শায়েস্তা খাঁ এর সাথে যুদ্ধ, তাড়া খেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো এবং শেষে সুতানুটিতে ব্যবসা করার অনুমতিপ্রাপ্তি। ইতিমধ্যেই জব চার্ণকের কথাও লেখক উল্লেখ করেছেন। এরপর কৌশলে প্রথম দুর্গ নির্মাণ অর্থাৎ ফোর্ট উইলিয়ামের প্রতিষ্ঠা আর তিনটি গ্রাম; সুতানুটি, গোবিন্দপুর, কলকাতা সাবর্ণ চৌধুরীদের থেকে কিনে একটা বিরাট এলাকায় আধিপত্য স্থাপনের সূচনা পর্ব। এর সাথে ওই তিনটি গ্রামের নামকরণের বিষয়েও কিছু কথা লেখক বলেছেন।
📛 এরপর ধীরে ধীরে কলকাতায় গড়ে উঠতে লাগল বিভিন্ন মানুষের বসতি। হোয়াইট টাউন আর নেটিভ টাউন নামে দুটো শহর গড়ে উঠল। ১৭৩৭ সালের বিশাল ঝড় এবং তারপরে বর্গি আক্রমণের কথাও বলা হয়েছে এর পরেই। তারপর আলিবর্দী খাঁ এর মৃত্যু ও পরিশেষে সিরাজের সাথে পলাশীর যুদ্ধ- সবকিছুই ছুঁয়ে গেছেন লেখক। এরপর ক্রমে কলকাতার অগ্রগতির কথা বলেছেন লেখক। ইতিমধ্যে শোভাবাজারের নবকৃষ্ণ দেববাহাদুর এর পরিবারের কথাও কিছুটা উল্লেখ করে গেছেন এক জায়গায়।
📛 লেখক পূর্ণেন্দু পত্রী গভর্নর জেনারেল এর পদের কথা, ওয়ারেন হেস্টিংসের কথাও বলেছেন। কলকাতার উন্নতির জন্য হেস্টিংসের বিভিন্ন অবদানের কথা বলে গেছেন। এরই মধ্যে তিনি কলকাতাকে বানালেন বাংলার নতুন রাজধানী। তারই পৃষ্ঠপোষকতায় শ্রীরামপুরে গড়ে উঠল বাংলার প্রথম ছাপাখানা। উইলিয়াম কেরীর কথা, তার ফোর্ট উইলিয়ামে বাংলা পড়ানোর কথা, বাংলার প্রথম মৌলিক গদ্যের বই, 'প্রতাপাদিত্য চরিত্র'-এর প্রকাশিত হওয়ার কথা সবই বলেছেন পরপর। কীভাবে গোঁড়া খ্রিস্টান থেকে হিন্দুধর্মের প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠলেন উইলিয়াম কেরী তার কথাও লেখক বলেছেন তার লেখাতে।
📛 এছাড়াও আছে কলকাতার রথের মেলা, রাস উৎসব পালনের কথা, হোলির কথা। এর পাশাপাশি আছে নৌবিহার কিংবা পালকি চড়ে ঘোরার কথাও।

ছবি : মূল কলকাতা সমগ্র ১
🔰 লেখক সবকিছুই খুব সুন্দর সহজ ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন। ভাষার প্রয়োগ এত সুন্দর যে একটানা পড়তেও কোনও সমস্যা হয় না। আর এত সুন্দরভাবে পরপর ঘটনাগুলো ছুঁয়ে গেছেন যে মনের মধ্যে একটা তালিকা তৈরি করে নিতে সুবিধা হয়।
🔰 এইভাবেই খুব সহজভাবে অল্পকথার মাধ্যমে বিস্তর তথ্যের মধ্য দিয়ে লেখক পূর্ণেন্দু পত্রী কীভাবে কলকাতার জন্ম হল, বা কী করে কলকাতা ক্রমে একটা জঙ্গল থেকে শহর হয়ে উঠল তারই প্রথম পদক্ষেপ লেখক উল্লেখ করে গেছেন।
Comments
Post a Comment