Abar Proloy / আবার প্রলয় (২০২৩) (বাংলা ওয়েবসিরিজ - Zee5)
কবি বলেছেন, "মেলাবেন তিনি মেলাবেন"
আমি "ম" বলি না, "ক" বলি…
"কেলাবেন তিনি কেলাবেন"
- অনিমেষ দত্ত, স্পেশাল ব্রাঞ্চ
প্রলয় ফিরেছে। নতুন ওয়েবসিরিজ হিসাবে 'আবার প্রলয়' রিলিজ করেছে Zee5 এর প্ল্যাটফর্মে। আবার ফিরেছেন অনিমেষ দত্ত।
📛 রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় আবার ফিরে এসেছে প্রলয়। রাজ চক্রবর্তীকে জেরক্স মেশিন হিসাবে ট্রল করা হলেও ওর পরিচালিত সিনেমা যে ফুল প্যাকেজ এন্টারটেইনমেন্ট তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ওয়েবসিরিজের জগতেও তাই অনিমেষ দত্তের সাথে হাতেখড়ি হল ফুল ক্যাওড়া মস্তি দিয়ে।
🔰 সুন্দরবনের একপ্রান্ত থেকে হামেশাই হয়ে চলেছে ছোটো ছোটো মেয়েদের কিডন্যাপ করে বিদেশে পাচার। এই পাচার রোখার কাজে পাঠানো হয় স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসার অনিমেষ দত্তকে। কাজ দুটো; এক, পাচার বন্ধ করা আর দুই, পাচারের সাথে যুক্ত ক্রিমিনালগুলোকে ধরা। বেরিয়ে পড়েন অনিমেষ আর যাত্রার শুরু থেকেই জড়িয়ে পড়েন এই কেসের সাথে। এই পাচারের পিছনে আসল গল্প কী, কে এই মাস্টারমাইন্ড, কীভাবে চলে অপারেশন আর কতদিন ধরেই বা চলে এই নিয়েই ফুল এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ 'আবার প্রলয়'।
👑 অনিমেষ দত্ত চরিত্রে সেই শাশ্বত চ্যাটার্জি। As usual সেই ক্যাওড়া। মুখ যেমন চলে, হাত আর পা-ও সমান তালে চলে আর চলে মাথা। কিছু সলিড প্যাদানো দেখলাম অনেকদিন পর। শাশ্বত চ্যাটার্জি চাবুক অভিনেতা আর শবর বা অনিমেষ হলে যেন ওকে আলাদা কিছু ভর করে। যেমন ডায়লগ থ্রোয়িং সেরকম এক্সপ্রেশন। এককথায় ফাটাফাটি।
🔱 অনিমেষ এর অ্যাসিস্ট্যান্ট বিতান বোস চরিত্রে দেবাশিস মন্ডল। থিয়েটার অভিনেতা দেবাশিস খুব বেশিদিন কাজ করছে না। কিন্তু ভালো কাজ করতে থাকলে কাজ চলতেই থাকে। সেটাই হচ্ছে। যেখানেই কাজ করছে ভালো লাগছে। এর আগে শিকারপুর ওয়েবসিরিজেও পুলিশের ভূমিকায় ছিল। সেখানেও ভালো লেগেছে। এছাড়া মন্দার, মহাভারত মাডার্স, একেনবাবুতে অভিনয় দেখেছি, ভালো লেগেছে। আর আবার প্রলয়ে তো ফ্যান্টাসটিক। অনিমেষ দত্তের সাগরেদ, তার মতোই তৈরি হচ্ছে😉
🔰 সুন্দরবনে গিয়ে দেখা হয়ে যায় মাস্টারমশাই এর সাথে, অর্থাৎ দাদু ওরফে বিনোদ বিহারী দত্তের (পরান বন্দ্যোপাধ্যায়) সাথে। যেখানেই ঘাপলা, সেখানেই নিকেশ করতে হাজির দাদু। পরানবাবুর সেই ঘাড় বেঁকানো প্রতিশোধ স্পৃহা আবার দেখলাম। তার রোল বেশি নেই, যেটুকু আছে ফাটিয়ে দিয়েছেন। তবে এটা আসলে একটু পুরোনো ছোঁয়া ছিটিয়েছেন পরিচালক। পরান বাবুর ক্যারেকটার যে গল্পের খাতিরে খুব দরকার ছিল, তা মনে হয় না। ওই যে প্রথমেই বললাম ফুল এন্টারটেইনমেন্ট, এটা তারই অংশ।
📛 তিন বন্ধুর চরিত্রে ঋত্বিক চক্রবর্তী, গৌরব চক্রবর্তী, কৌশানী মুখোপাধ্যায় যথাক্রমে শম্ভুবাবা, কানু, মোহিনী-মা এর ভূমিকায় রয়েছেন। প্রথম দুজন তো সলিড অভিনেতা। ঝাকড়া চুলে ঋত্বিকের শা-আ-আ-আ-আ-ন্তি একটা আদ্যপ্রান্ত মজাদার কন্টেন্ট। গৌরবের ভয়েস তো সেরা, তবে এখানে আরও ভালো লেগেছে ওর 'ক্যালানো'। কৌশানী এর আগে এতটা নিখুঁত কাজ করেছে বলে মনে পড়েনা। অবশ্য ও যেসব ছবি করত বা করে এটা তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা স্কেলের গল্প। সবমিলিয়ে তিনজনেই পুরো ক্যাওড়া কাজ করেছে।
🔆এছাড়া সোহিনী সেনগুপ্ত আছে, সায়নী ঘোষ আছে। তারা নিজেদের রোলে বেশ ভালো। আর একজনের নাম আলাদা করে বলছি। তিনি হলেন পার্থ ভৌমিক, নৈহাটির বিধায়ক। বর্তমানে রাজ্যের সেচ ও জলপথ দপ্তরের মন্ত্রী। সুন্দরবনের এক পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। এরকম আরও দুজন আছেন। পার্থবাবুর রোলটা অনেকটাই কমিক্ চরিত্রের আর তিনি পুরো ফাটিয়ে দিয়েছেন।
🔰 এছাড়া এই সিরিজে প্রধান চরিত্রগুলি হল অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা। প্রত্যেকটা চরিত্র ফাটাফাটি, কাউকে দেখে বোঝার কোনও উপায় নেই যে কেউ অভিনয় করছে। কারোর কোনও জড়তা নেই। সবার নাম আমি জানি না, তার মধ্যে থেকেও আর্য, সামিয়ুল, পুশান, দেবমাল্য এদের আগে দেখেছি। এছাড়া বাকিরা, প্রত্যেকে সেরা।
📛 এই ওয়েবসিরিজটির গান নিয়ে একটা কথা বলার আছে। দুটো গান, দুটোই জঘন্য। তাও আইটেম সং-এ নুসরত ফারিয়া আর গৌরবের নাচ বেশ ভালো লেগেছে।
📌 আর বেশি প্রশংসা করব না। প্রশংসা অনেকটা চর্বির মত, কোনো কাজে আসে না, কিন্তু শরীর ফুলিয়ে দেয়… সিরিজের শেষে হিন্ট আছে যে, আবার আসবে প্রলয়, আসবে আবার অনিমেষ দত্ত। আসা করব খুব দেরি যেন না করে ফেলেন পরিচালক মহাশয়।
*-----*-----*-----*-----*-----*







Comments
Post a Comment