চন্দননগরে চড়ুইভাতি নাকি ফরাসডাঙায় ফূর্তি !!! (Chandannagar)
একদিনের ট্যুরে ঘুরে এলাম চন্দননগর। আমি, অপূর্বদা, সৌমেন আর অর্ণব এই চারজনে মিলে বেরিয়ে পড়লাম। পরীক্ষা শেষ এবং ফলাফল প্রকাশিত, কোথাও যাওয়ার কথা অনেকদিন ধরেই ভাবা হচ্ছিল। আর তাই চন্দননগর থেকেই ঘুরে এলাম সবাই মিলে। আমি এর আগে একবার এসেছি যদিও, তবে বাকি তিনজনেরই প্রথমবার। তবে আগে আসলেও এবারে আরও কয়েকটা নতুন জায়গা দেখলাম যা আমারও আগে দেখা হয়নি। তাছাড়া চন্দননগর মতো জায়গায় একাধিকবার গেলেও মনে হয় যেন আবার যেন ঘুরে আসি। স্ট্র্যান্ড রোডে গঙ্গার পার বরাবর হাঁটতে হাঁটতে যে অসাধারণ অনুভূতি হয় তা ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়।
🔰 আমরা সোদপুর থেকে পানিহাটি ঘাটে লঞ্চ ধরে কোন্নগর হয়ে গেলাম। আমার বন্ধুদের হাওড়া দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, লঞ্চে করে আমি যাব শুনে নিজেদের আর ধরে রাখতে পারেনি। তাই এই পথেই তারা যেতে ইচ্ছাপ্রকাশ করে। আর গঙ্গার উপর দিয়ে লঞ্চে যাওয়ার যে সুন্দর অনুভূতি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জলের ঢেউ, ঠাণ্ডা বাতাস সবই যেন এদিন ছিল ভরপুর।
👉 এরপর কোন্নগর ঘাট থেকে একটা টোটো নিয়ে কোন্নগর স্টেশন আর সেখান থেকে ট্রেনে করে কয়েকটা স্টেশন পরেই চন্দননগর।
🔰 চন্দননগর স্টেশনে নেমে প্রথমেই মুগ্ধ হয়ে গেলাম আবহাওয়া দেখে। না রোদ, না বৃষ্টি, মনোরম বাতাস পরিবেশকে মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে। বেশ অনেকটা পথ আসার দরুণ সকলেরই একটু খিদে পেয়ে গেছিল। তাই স্টেশন থেকে বেরিয়েই বাইরে থেকে একটা টোটো নিয়ে নিলাম আর চলে এলাম চন্দননগর চার্চ রোডে, 'অভিনন্দন'-এ। জলখাবারের জন্য এই দোকানটির বিষয়ে আগেই ইউটিউব থেকে জেনে এসেছিলাম। আর এখানে এসে বুঝলাম ভুল জায়গা বাছিনি।
🔆 আমরা নিলাম কচুরি, পরোটা, আলুর দম, চাটনি। খাবারের মান বেশ ভালো, তবে সবথেকে ভালো করেছে চাটনিটা। এতটাই সুন্দর বানিয়েছে যে চাটনি দিয়েই কচুরি খাওয়া হয়ে যাচ্ছে। আলুর দম আমার খুব ভালো লাগেনি, তবে আমার বাকি তিন বন্ধুর খুবই ভালো লেগেছে। এইখানে পেটপুজো সেরে নিয়ে এবার আমরা শুরু করলাম আমাদের ভ্রমণ।
🔱 প্রথমেই একটা তালিকা করে দিই যে কী কী জায়গা আমরা ঘুরে দেখেছি,
- চন্দননগর স্ট্রান্ড
- চন্দননগর মিউজিয়াম
- পাতালবাড়ি
- শহীদ মিনার
- নন্দদুলাল জিউর মন্দির
- রাণিঘাট
- ক্লক টাওয়ার
- পবিত্র হৃদয় গির্জা
১. চন্দননগর স্ট্র্যান্ড
🔰 স্ট্র্যান্ড রোডেই রয়েছে চন্দননগর এর বিখ্যাত 'দ্য স্ট্র্যান্ড' বা জোড়াঘাট। এই স্ট্র্যান্ড রোডের নাম আগে ছিল ফ্রেঞ্চ কলোনি। পরে নতুন নাম হয়। স্ট্রান্ডটি রয়েছে মূলত তিনমাথার মোড়ে। আমরা চার্চের দিক থেকে এলাম, তাই বাঁদিকে চলে যাচ্ছে রাণিঘাট আর ডানদিকে পাতালবাড়ি। গঙ্গার জলের মধ্যে গিয়ে দাঁড়ানোর মত অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাইলে এখানে নামতে হবে। দুইপাশ দিয়ে সিঁড়ি নেমে গেছে। মাঝখানে একটা সিঁড়ি ধরে চাতাল এ নামছে, যেটা গঙ্গার উপর নির্মিত। দশটি পিলার এর ওপর মূল কাঠামোটা নির্মিত। এর সামনে রয়েছে এক্সটেনশন যেটা গঙ্গায় গিয়ে পড়ছে। এখানে দাঁড়িয়ে দূর-দিগন্ত পর্যন্ত দুই দিকেই গঙ্গার বিস্তার দেখা যায়। মাঝে মাঝে নৌকা বা লঞ্চ এর যাতায়াত চোখে পড়ে। আমরা যখন গেলাম, সেদিন নিম্নচাপের দরুণ আবহাওয়াও ছিল মনোরম। ঝড়ের গতিতে হাওয়া বইছিল। আমাদের স্ট্র্যান্ডে দাঁড়ানোই দায় হয়ে গেছিল। অপূর্বদা তো স্ট্র্যান্ডের উপর বসেই পড়ল। তার দেখা দেখি অর্ণবও। তবে অসাধারণ এই পরিবেশ, যে ওখানে সেই মুহূর্তে ছিল, কেবল সেই অনুভব করতে পারবে। লিখে বা মুখে বলে ওই অনুভূতির প্রকাশ সম্ভব নয়।
২. চন্দননগর মিউজিয়াম
🔰 ফরাসি গভর্নর এর প্রাক্তন বাড়িই বর্তমানে চন্দননগর মিউজিয়াম হিসাবে পরিচিত। প্রথমে ঢুকেই পাথর সুড়কি বিছানো রাস্তা দিয়ে হেঁটে মূল বিল্ডিং-এ উঠতে হয়। এর রাস্তার পাশেই ছোট্ট ঘেরা একটা বাগান আছে, সেখানে একটা ফোয়ারা রয়েছে। একটা নারীমূর্তি রয়েছে। মিউজিয়ামে প্রথমে ব্যাগ আর ফোন রেখে টিকিট কেটে ঘুরে দেখা শুরু করলাম।
🔰 প্রথম ঘরে ঢুকেই পাবেন পুরোনো ঐতিহাসিক ঘটনার কথা। কোন কোন ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি কবে এসেছিল, কোথায় তাদের উপনিবেশ ছিল, কোথায় দুর্গ, কী কী রপ্তানি করত সবকিছুই দেখানো আছে বিভিন্ন লেখা ও চিত্রের মাধ্যমে। সেই সময়কার বিশালাকার ম্যাপ হাতের কাজের মাধ্যমে রঙিন ভাবে তৈরি করা হয়েছে। কাগজের ম্যাপ নয়, এটা থার্মোকল দিয়েই তৈরি করা হয়েছে। রেশম বুনছে এক ব্যক্তি তার মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া আছে, পুরাকীর্তির সাক্ষী রাখা অসংখ্য মাটির প্রদীপ এর নমুনা। আছে কামানের গোলা বা সেই সময়কার Roof Tiles.
🔰 দ্বিতীয় ঘরটি বেশ বড়। প্রথমে যে ঘর দিয়ে ঢুকছি তার সাথে লাগোয়া আর একটি ঘর আছে। প্রথম ঘরেই রয়েছে অসংখ্য খাবার টেবিল, ফুলদানি, অসংখ্য আয়না। স্টাডি টেবিলও আছে বেশ কিছু, সেইগুলিই খুবই সুন্দর। এই ঘরে এছাড়া গভর্নর ডুপ্লের একটি মূর্তি। এবার এই ঘর থেকে ভিতরে যে ঘরে যাওয়া যায়, সেখানে রয়েছে বিভিন্ন তৎকালীন সব সংবাদপত্রের নমুনা। কয়েকটি শোপিজ জাতীয় জিনিস, কয়েকটি ছোটো বড় মূর্তি। অসংখ্য ফটো ফ্রেমে বাঁধানো নথিপত্র। এছাড়া তৎকালীন ফরাসি নারীদের বিভিন্ন বাঁধানো ছবি রয়েছে। আর কয়েকটি আলমারিতে বেশ কিছু বিভিন্ন বিষয়ের বই আছে।
এই ঘরের থেকে আর একটি ঘর ঢুকছে সেটি শয়নকক্ষ। বিশালাকার পালঙ্ক, বিরাট আয়না, ড্রেসিং টেবিল, সেন্টার টেবিল রয়েছে। খাটে ওঠার জন্য কাঠের সিঁড়ির ব্যবস্থা। এছাড়া ড্রয়ার আলমারিজাতীয় কিছু আসবাবপত্র। এর পাশের ঘরটাই অফিস ঘর। যেখানে ভারত-ফ্রান্স এর কনফারেন্স রুম বলা যেতে পারে। অফিসিয়াল কাজকর্ম যে এখানে হত বোঝাই যায়, আছে তৎকালীন অশোকস্তম্ভের একটি প্রতিমূর্তি আর ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক। এর লাগোয়া আর একটি ঘর আছে। এতে রয়েছে সেই সময়কার বিভিন্ন দরকারি কাগজপত্র, কানাইলাল দত্ত এর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কাগজপত্র, আমাদের ভারতীয় বিভিন্ন মনিষীদের চিত্র ও তাতে উল্লেখ করা আছে জন্ম-মৃত্যু সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য। এছাড়া কয়েকটি আবক্ষমূর্তি রয়েছে। এরপরেই দরজা দিয়ে বেরিয়ে বারান্দায় চলে আসা হচ্ছে। অর্থাৎ, দ্বিতীয় বা তৃতীয় দরজা দিয়ে ঢুকলে ভিতর দিয়ে ঘুরে আবার অন্য দরজা দিয়ে বেরোনোর উপায় রয়েছে।
🔰 বারান্দার একপ্রান্তে আছে তৃতীয় একটি ঘর। তৃতীয় ঘরে সবটাই সেইসময়কার সব জিনিসপত্র। এই ঘরেরও আবার বেশ কিছু ভাগ আছে। প্রথমে যেখানে প্রবেশ করছি, সেই ঘরে ঢুকেই কাচের সোকেসের মধ্যে রাখা রয়েছে বিভিন্ন দেশের তৎকালীন ব্যবহৃত মুদ্রা। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, পর্তুগাল, হল্যান্ড, বেলজিয়াম, ভারত সবারকারই মুদ্রা উপস্থিত আছে। এরসাথে আছে পাথরের কিছু স্যাম্পল। এগুলি রত্ন আকারে ব্যবহৃত হত খুব সম্ভবত। এর পাশেই একটা ঘর আছে, যেখানে বিভিন্ন চিত্রকরের আঁকা ছবি রয়েছে। অসংখ্য সব ছবি। কে কে কোনটা এঁকেছে, সবকটার নাম দেওয়া নেই। এর পাশেই একটা ছোটো ঘর লাইব্রেরি জাতীয়। দুটো আলমারিতে রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বই। এছাড়া টুকটাক কয়েকটি আসবাবপত্র রয়েছে। এরপর আর একটি ঘরে আমরা ঢুকছি, এটাই মিউজিয়াম এর শেষ ঘর। এখানে ঢুকেই একটা বিশাল রথ আছে। কাঠের ওপর প্লাই দিয়ে করা। আছে বিভিন্ন ঘর সাজানোর শোপিজ জাতীয় জিনিস। এছাড়া একটা আলমারিতে আছে অসংখ্য সব অস্ত্র। তলোয়ার, খাঁড়া সব বিরাট বিরাট অস্ত্র, এগুলি যে ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করত তার উল্লেখ করা আছে ওখানে। একটা মা দুর্গার মূর্তি রয়েছে। শুধু দুর্গা আর অসুর। এছাড়া কুটির শিল্পের বিভিন্ন সব নিদর্শন আছে। হাতের কাজে বানানো, তৎকালীন বিভিন্ন দ্রষ্টব্য রয়েছে। প্রাচীন বাংলার নকশি কাঁথার কথা পড়েছি। তিনটে কাঁথা রয়েছে। ফ্রেম করা ছিল, কিন্তু ওগুলো এখন ভগ্নপ্রায়। তৃতীয় ঘরটা মূলত এইসব বিভিন্ন জিনিসের সংগ্রহশালা বলা যেতে পারে।
🔱 এই ছিল মিউজিয়াম এর মূল বিল্ডিং এর দেখার জিনিস। এছাড়া পাশে ও পিছন দিকে রয়েছে বড় বাগান। ফুল চাষ হয়, মাছ চাষ হয়। পিছনে একটা ঘর আছে যেখানে ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখানো হয়। পিছনের ডান দিকে রয়েছে টয়লেট। সাধারণ মানুষ দরকারে ব্যবহার করতে পারে।
👉 টিকিট মূল্য : ৫ টাকা (বিদেশীদের জন্য ২০ টাকা)
📛 সময় : বৃহস্পতিবার ও শনিবার বাদে সপ্তাহের বাকি দিনগুলি সকাল ১১:০০ থেকে বিকাল ৫:৩০ পর্যন্ত। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বন্ধ থাকে।
৩. পাতালবাড়ি
🔰চন্দননগর মিউজিয়াম দেখার পর স্ট্র্যান্ড রোড ধরে সোজা এসে পৌঁছালাম পাতালবাড়ি। পাতালবাড়িতে প্রবেশ নিষেধ। স্পেশাল পারমিশন নিয়ে আসতে হয়। এই বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসে থাকতেন মাঝেমধ্যেই। বাড়ির সামনেই যে বাঁধানো ঘাট আছে, সেখানে বাধা থাকত তাঁর প্রিয় পদ্মাবোট। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও এখানে এসেছেন। বাইরেই রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ও বিদ্যাসাগরের দুটি ফলক।
৪. শহীদ মিনার
🔰 পাতালবাড়ির ঠিক পাশেই রয়েছে শহীদ মিনার। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের বাঙালি বীর ভাষা-শহীদদের স্মৃতিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার জন্যই চন্দননগরের ভাষা শহীদ উদ্যানের ভাষা শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়েছে। চন্দননগর কর্পোরেশনের উদ্যোগে ২০০৫ সালে বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত মূল বেদীটির আদলে এই বেদীটি নির্মাণ করা হয়। হুগলী নদীর পাশেই অবস্থিত এই মিনারের পাশে মানুষ এসে বসতে পারে, সুন্দর সময় কাটাতে পারে।
৫. নন্দদুলাল মন্দির
🔰 শ্রীশ্রী নন্দদুলাল জিউর মন্দিরটি ১১৪৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৩৯ সালে চন্দননগরের তদানীন্তন ফরাসি সরকারের দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মন্দিরে শ্রীশ্রী নন্দদুলাল জিউর বিগ্রহ নির্মাণের মাধ্যমে মন্দির স্থাপন করা হয়েছিল।মন্দিরে শ্রীশ্রী নন্দদুলাল জিউর বিগ্রহ নিত্য পূজিত হয়। পরবর্তীকালে এই মন্দিরটি সংস্করণও করা হয়। মন্দির সংস্কারের পরেও বহুদিন মন্দিরে কোনো বিগ্রহ ছিল না। মন্দিরে পুরানো বিগ্রহের ছবিকেই পুজো করা হত। তবে ২০০৫ সালে বিগ্রহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পুরানো বিগ্রহের ছবিটি বর্তমান বিগ্রহের পাশে রাখা আছে। আমরা যখন যাই তখন মন্দির বন্ধ থাকায় বিগ্রহ দর্শন করা হয়ে ওঠেনি। তবে মন্দিরের ভিতর আর বাইরের কিছু ছবি তুলে আনতে সক্ষম হয়েছি।
📌 এরপর আমরা রাস্তায় যেতে যেতে আবিস্কার করা রেস্টুরেন্ট বঙ্গ-রসনাতে দুপুরের ভুঁড়িভোজ করতে যাই। খাওয়া-দাওয়া সংক্রান্ত তথ্য আলাদা করে অন্য একটি জায়গায় দেওয়া হবে। খাওয়াদাওয়া শেষ হলে আমরা আবার এসে পৌঁছালাম স্ট্র্যান্ড রোডে।
৬. রাণিঘাট
🔰 খাওয়া-দাওয়ার পর হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছালাম স্ট্র্যান্ড রোডে। স্ট্র্যান্ড রোডের শুরুতেই আছে রাণিঘাটে। এখানে প্রতিবছর জগদ্ধাত্রী পুজোর ঠাকুর ভাসান হয়। রাণিঘাট থেকে ফেরি সার্ভিস চালু আছে। লঞ্চে করে নদীর ওপারে জগদ্দল ঘাটে পৌঁছানো যায়।
৭. ক্লক টাওয়ার
🔰 স্ট্র্যান্ড রোডে চন্দননগর ক্লক টাওয়ারটি নির্মিত হয়েছিল ১৮৮০ সালে। এই একতলা ভবনটি এখন থানা হিসেবে কাজ করে। মূল কাঠামোর মাঝখানে পুরনো ঘড়িটি বসে আছে যেখান থেকে ভবনটির নাম এসেছে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি লম্বা টাওয়ারের মতো যা রোমান সংখ্যায় সময়কে নির্দেশ করে এবং এর মাথার উপরে যীশুখ্রীষ্টের ক্রুশ রয়েছে।
৮. চার্চ
🔰 আমাদের শেষ ভ্রমণ হল চন্দননগরের পবিত্র হৃদয় চার্চ। আমরা ভিতরে ঢুকিনি। চার্চের সামনে থেকে যতটা দেখা যায় মোটামুটি দেখে এলাম। আগে যখন এসেছিলাম, তখন চার্চে যাওয়া হয়নি। এবার তাই একবার ঘুরে আসার ইচ্ছা ছিল। রাস্তার মাঝখানে অবস্থিত চার্চটি। দুইদিক থেকে রাস্তা চলে যাচ্ছে। এই রাস্তা গুলো মিলে যে রাস্তাটা তৈরি হচ্ছে সেটি এসে মিলছে স্ট্র্যান্ড রোডে।
🔆 এইভাবেই সমাপন ফরাসডাঙার একদিনের ভ্রমণ। এরপর ঘরে ফেরার পালা। এইবারে অন্যপথে ফেরার রাস্তা ধরলাম। রাণীঘাট থেকে জগদ্দলের যে ফেরি সার্ভিস চালু আছে তাতে করে গঙ্গা পার হয়ে জগদ্দল ঘাটে এসে পৌঁছালাম। সেখান থেকে টোটো করে জগদ্দল স্টেশন আর তারপর ট্রেন ধরে যে যার বাড়ি…😃
📛 সবমিলিয়ে কাটল একটা অসাধারণ দিন। একটা বছরের অনেক চাপ, অনেক পরিশ্রমের পর একটা দিন একটু খোলা বাতাস গ্রহন। অনেক কথা, অনেক গল্প আর সাথে অনেক মজা। অনেকরকমের প্রাণখোলা আড্ডা হল, মিউজিয়ামের সবুজ বেঞ্চে বসে দীর্ঘ সময় কাটল যার সবকিছুরই স্মৃতি থেকে যাবে আজীবন….😇😉

Comments
Post a Comment