রয়্যাল ইণ্ডিয়ান হোটেল (Royal Indian Hotel)

কলকাতার বিভিন্ন প্রসিদ্ধ ও নামকরা জায়গার বিভিন্ন খাবার খেয়ে দেখার ইচ্ছা ছিল। সেই ইচ্ছা এখনও রয়েছে বহাল তবিয়তেই। তাতেই নতুন সংযোজন রয়্যাল ইণ্ডিয়ান হোটেল। রয়্যাল এর বিরিয়ানির গল্প সেই ছোট থেকে শুনে আসছি। অবশেষে যাওয়া আর খাওয়া দুটোই হল। তারই গল্প এখানে তুলে ধরলাম.... 



🔆 কীভাবে যাওয়া যাবে ? 

মহাত্মা গান্ধী রোড যেখানে চিৎপুর রোডের সাথে মিশছে সেই সংযোগস্থল থেকে বামদিকে চিৎপুর রোডের উপরেই ডান-হাতে কয়েক-পা হাঁটাপথ মাত্র। এছাড়া মেছুয়া বাজারের দিক থেকে আসলে বাজার টপকে চিৎপুর রোডে মিশলে সেখান থেকে বাঁদিকে তিন মিনিটের হাঁটা পথ। 

⛔ গুগল ম্যাপ লোকেশন লিংক - 


🔰 রয়্যাল ইণ্ডিয়ান হোটেলের নীচের তলায় এসি নেই। পাশেই উপরে উঠে যাওয়ার সরু সিঁড়ি রয়েছে। সেখান দিয়ে উপরে উঠে বাঁহাতে বাতানুকুল রেস্টুরেন্ট। আমরা ছিলাম চারজন। গিয়ে বসলাম এক সোফা কাম চেয়ার বিশিষ্ট টেবিলে। 

🔰 এখানকার বিরিয়ানির নাম অনেক শুনেছি, সুতরাং সেটা তো চেখে দেখতেই হবে। এছাড়া এদের মটন চাপ-টিও বেশ প্রসিদ্ধ। আমরা বিভিন্ন রকমের পদ নিয়েছিলাম যাতে ছিল মটন বিরিয়ানি, চিকেন টিককা বাটার মশালা, রুমালি রুটি, মটন চাপ, ফিরনি এবং একটি জলের বোতল। 

🔰 চিকেন এর প্রিপারেশন মোটামুটি অন্যান্য জায়গার মতোনই কমন। নতুন রকমের আইটেম নেই। স্বাদ যদি আলাদা হয় সেইটাই দেখার। তাই টিককা মশালাই নিলাম আমরা। নারগিসি কোফতা নামে মটনের একটি পদ চেখে দেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু এতে কেবল একটি পিসই থাকবে বলে আর নেওয়া হল না। এই পদটি কেবল বুধবার আর শনিবারেই পাওয়া যায়। পরে কোনোদিন আবার হবে .........



⛔ এবার খাবারের প্রসঙ্গে আসা যাক। প্রথমে বিরিয়ানির কথাতে যদি বলি, এনাদের স্পেশালিটি কিন্তু একটু অন্যরকম। বিরিয়ানিতে আলু দেয় না রয়্যাল। কেন !? 

👉 কারণ, রয়্যাল ইণ্ডিয়ান হোটেল শুরুর পিছনে যিনি ছিলেন অর্থাৎ আহমেদ হোসেন লখনউ এর আওধ এর ব্যক্তি আর তিনি আর তার উত্তরপুরুষেরা লখনউ এর সেই ধাঁচটাই বজায় রেখেছিলেন। লখনউ এর বিরিয়ানিতে আলু নেই, এখানেও তাই আলু ছাড়া বিরিয়ানি। 

🔰  কিন্তু ভরসা রাখুন, কোনও অসুবিধা হবে না। আমি নিজে আলু সহযোগে বিরিয়ানির ফ্যান, কিন্তু তাও বলছি, কোনও অভাব অনুভব হবে না। খুব বেশি মশালাযুক্ত নয়, হালকা কিন্তু সুন্দর স্বাদ। আর মটনটি খুব সুন্দর সেদ্ধ হয়েছিল। নরম মাংস সহযোগে পরিতৃপ্ত ভোজন। এই গরমেও একদম কষ্ট হবে না। 


🔰  এরপর পুরোনো খাবারে আসি। রয়্যালের মটন চাপ.... একদম শুরুর দিন থেকে মানে সেই ১৯০৫ সাল থেকে এই আইটেমটা চলছে রয়্যালে। আর কেন বিখ্যাত সেটা না চাখলে বোঝা যাবে না। ছোটো ছোটো কুচো পিস আর সুস্বাদু কীমার মতো মটনের আইটেম। তবে এই জিনিসটা আরও ভালো হত যদি কুচো হাড়গুলো বাদ দেওয়া যেত। যদিও তাতে স্বাদের বিষয়ে কোনও ঘাটতি নেই। 

🔰 এছাড়া ছিল চিকেন টিককা বাটার মশালা। ভালোই বানিয়েছিল এবং গ্রেভিটার স্বাদ বেশ ভালো। অন্যান্য জায়গায় খেয়েছি, একপ্লেটে ছয় পিস চিকেন দেয়। এরা সাত পিস চিকেন দিয়েছিল। আর রুমালি রুটি ঠিকঠাক। ফিরনি এর দাম এখন অনেকটাই বেড়ে গেছে। দাম এর তুলনায় পরিমাণ বেশ কম। এই বিষয়ে একটু নজর রাখা উচিত। তবে আর্সালান এর ফিরনি এর থেকে ভালো লেগেছে। 

🔱এছাড়া রেস্টুরেন্ট এর ডেকোরেশন বেশ ভালো। স্টাফদের ব্যবহারও বেশ ভালোই। বসার অ্যাকোমোডেশান ঠিকঠাক। সবমিলিয়ে সুন্দর সময় কাটল আর সাথে হল খুশির ভুঁড়িভোজন।


#রয়্যাল_ইণ্ডিয়ান_হোটেল
১৭/০৬/২০২৩


Comments

Popular posts from this blog

'সুরাবর্দী অ্যাভিনিউ'-এর সুরাবর্দী কে ? || Suhrawardy Avenue

দার্জিলিং জমজমাট || Darjeeling Tour || Sittong, Mungpoo, Takdah, Tinchuley, Lamahatta || Mirik, Lepchajagat ||

কাকা-ভাইপো যা, মামা-ভাগ্নেও তাই !!! || সুরাবর্দী অ্যাভিনিউ || Suhrawardy Avenue