Ballabhpurer Roopkotha / বল্লভপুরের রূপকথা (২০২২) (বাংলা সিনেমা)
#সিনেমা : বল্লভপুরের রূপকথা (২০২২)
#পরিচালক : অনির্বাণ ভট্টাচার্য
হইচইতে দেখলাম বল্লভপুরের রূপকথা। বাদল সরকারের নাটক অবলম্বনে অনির্বাণ ভট্টাচার্য দ্বারা নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি গতবছর মুক্তি পায় প্রেক্ষাগৃহে। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও যাওয়া না হওয়ার দরুণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলাম যে কবে ডিজিট্যালি মুক্তি পাবে চলচ্চিত্রটি। অবশেষে সে আশা পূর্ণ হল। 😇
🔶️ এই সিনেমার মূল বিষয়বস্তু হল অভিনয়। সিনেমাতে প্রত্যেকের অভিনয় দুর্দান্ত। আলাদা করে যে দুজনের কথা বলতে হয় তারা হলেন সত্যম ভট্টাচার্য এবং শ্যামল চক্রবর্তী। সম্পর্কে মনিব আর চাকরের পার্ট করলেও এই দুজনের কম্বিনেশন চরম। খুব উপভোগ করেছি। সত্যমের কাজ দেখেছি এর আগে তানসেনের তানপুরাতে। সেখানে অল্প পার্ট থাকলেও বেশ ভালোই লেগেছিল তার অভিনয়। সুরঙ্গনা আর দেবরাজের কাজও খুব ভালো লেগেছে। দেবরাজ, এখানে বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছে। হঠাৎ আসা উটকো ঝামেলায় কী অদ্ভুত অভিনয় করল সে তা দেখার মত। ❣
⛔ তবে চলচ্চিত্রের একটি জিনিস নিয়ে খটকা আছে। প্রথম থেকেই সেটা কানে লেগে রয়েছিল। সাল সম্পর্কিত তথ্য। কীরকম!? একটু দেখা যাক।
🔷️ প্রথমে দেখানো হয় যে গল্প শুরু হচ্ছে ১৩৬৮ শকাব্দে। পরে ক্রমশ জানা যায় রাজবাড়ি চারশো বছরের পুরোনো এবং তা তৈরি হয় ৯৬৮ শকাব্দে। এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু এই ৯৬৮ শকাব্দ থেকে যখন খ্রিস্টাব্দের হিসাব করা হচ্ছে তা গিয়ে দাঁড়ালো ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দ। প্রশ্ন এখানেই.... 🤔
🔷️ যেটুকু আমি জানি, তাতে এই বলছে যে শকাব্দ ৭৮ খ্রিস্টাব্দে কুষাণ সম্রাট কণিষ্ক প্রচলন করেন। অর্থাৎ খ্রিস্টাব্দ এর সাথে এর পার্থক্য ৭৮ বছর। যেমন এটা ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, অর্থাৎ ২০২৩ - ৭৮ = ১৯৪৫ শকাব্দ।
কিন্তু চলচ্চিত্রে দেখা যাচ্ছে সেই পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে ১৫৬১ - ৯৬৮ = ৫৯৩
আবার এই তথ্যটিও আছে, শশাঙ্ক বঙ্গাব্দের প্রচলন করেন ৫৯৩ খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ এখন আমাদের ২০২২-৫৯৩=১৪২৯ বঙ্গাব্দ চলছে।
এই থেকে স্পষ্টতই এই ধারণা আসাই যায় যে পরিচালক মহাশয় শকাব্দ আর বঙ্গাব্দের মধ্যে গুলিয়েছেন। পুরো ঘটনাটা বঙ্গাব্দে হবে। যেহেতু নাটকটা পড়া নেই তাই সেখানে কী লেখা আছে আমার অজানা বটে। 🙂
তবে ত্রুটি বলতে এই একটাই লেগেছে। অনিচ্ছাকৃত (?) মেজর ভুলটাকে যদি কোনোভাবে ভুলে থাকার চেষ্টা করি তবে আর প্রশ্নের কোনও অবকাশ নেই। পরিচ্ছন্ন, সুন্দর একটি ছবি। বেশ ভালো সপরিবারে উপভোগ্য।
🔶️ মিউজিক নিয়ে দুটো কথা বলতেই হয়। প্রথমেই শুরুতে বাদল সরকারের নাটক থেকে এন্ট্রির যে গান অর্থাৎ, 'বাদল সরকারের গান' আর তারসাথে যে ভিডিওটি করা হয়েছে সেটা বেশ ভালো লাগল। এছাড়া 'সাজো সাজাও' গানটিও বেশ ভালো লাগল। 🙏
২১/০১/২০২৩
Comments
Post a Comment