দার্জিলিং জমজমাট (ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি) (২০২২) (বাংলা ওয়েবসিরিজ)

#ওয়েবসিরিজ : ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি (সিজন ১)
#গল্প : দার্জিলিং জমজমাট 
#পরিচালক : সৃজিত মুখার্জী
#স্ট্রিমিং_প্ল্যাটফর্ম : হইচই 

             গরমটা মারাত্মক পরেছে। এইসময় একটু ঠাণ্ডা আবহাওয়া হলে মন্দ কী!? আর সেটা যদি ফেলুদার সাথে দার্জিলিং গিয়ে জমজমাট কাণ্ডকারখানার সাক্ষী থাকা যায় তবে তো সোনায় সোহাগা!!! তাই হয়তো গতকাল বৃষ্টি হয়ে আবহাওয়া একটু বদলে গেল...


🔶️ ️গল্পের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে পরিচালক মহাশয় একটু কয়েকটা সংলাপ ঢুকিয়েছেন। গল্পের খাতিরে সেগুলো ভালোই লেগেছে। একটু অন্য স্বাদ এসেছে। আসলে চলচ্চিত্র যখন কোনো গল্প থেকে হয় সেটা পুরো গল্প অনুযায়ী পরপর সাজিয়ে গেলে তো চলে না.... চলচ্চিত্রের দরুণ কিছু কিছু জায়গায় একটু চেঞ্জ করতে হয়। কিছু বলার কথা একটু বদলাতে হয়। পুরো গল্পটাই যদি দেখতে বা শুনতে হয় তাহলে তো মির্চি বাংলাও আছে তাই না!! পাঠক আর দর্শকের মধ্যে একটা ফারাক থাকে। দুজনকেই একই জিনিস গেলালে চলে না। সৃজিতবাবু সেটা বোঝেন, আর বোঝেন বলেই তার নিজের কিছু ছাপ রেখেছেন। বেশ ভালো লেগেছে। 

🔷️ গল্পে হয়তো অনেকে শ্যুটিং এর বাড়ি নিয়ে কথা বলেছেন যে এই বাড়িতে অনেক শ্যুটিং হয়। আমার মনে হয় এইসব কথা ভুলে নতুন ভাবে জিনিসটাকে দেখা উচিত যে এখানে কী হল। এটা বাস্তব ব্যাপার নয় যে এই বাড়িতে এই লোকই থাকে। ভিন্ন গল্পকে ভিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে দেখাটাই বেটার। এসব তুলনা অর্থহীন। 

🔶️ আশপাশের দৃশ্যাবলী যেরকম শ্যুট করা হয়েছে, যেরকম ভাবে এডিটিং এবং আলোর ব্যবহার করা হয়েছে, বিশেষ করে এয়ারপোর্টে যখন চরিত্ররা বসে ছিলেন, সেগুলি যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। ভিএফএক্স এর ব্যবহার অল্প করেও খুব সুন্দর ভাবে দার্জিলিং এর নস্টালজিক পরিবেশ পরিচালক মহাশয় তৈরি করেছেন। সত্যি বলতেই হয়, সৃজিতবাবু ফেলুদা খুবই আগ্রহ নিয়ে বানান। অন্তরের ভালোলাগা না থাকলে এত খুঁটিনাটিগুলো ঠিক হয় না। ওনার পরবর্তী ফেলুদার জন্য অপেক্ষায় রইলাম। 

🔷️ থ্রি'মাস্কেটিয়ার্সের অভিনয় আরও বেশি স্বচ্ছল। আসলে হওয়াই উচিত। প্রথমবারের যে প্রেসার থাকে সেটা কাটিয়ে উঠেছেন। আমি নিশ্চিত 'যত কান্ড কাঠমান্ডুতে' রিলিজ করলেও ওনাদের অভিনয়ের ইমপ্রুভমেন্ট চোখে পড়তোই। 'দার্জিলিং জমজমাট'-এ তাই দুর্দান্ত অভিনয় চোখে পড়ল। টোটার লুক নিয়ে কথা তো হবেই না। ফিটনেসও চরম। শুধু ফেলুদা করছেন বলে নয়..উনি নিয়মিত শরীরচর্চা যোগব্যায়াম করেন। আর টোটার ফেলুদা হিসাবে অভিনয়ও বেশ ভালো লাগল। কন্ঠস্বর, অ্যাটিটিউড সব কিছুই ভালো হয়েছে। অনির্বাণবাবু একেনবাবু থেকে জটায়ুর দিকে চলে এসেছেন পুরোটাই। তার কন্ঠে বৈকুন্ঠ মল্লিকের কবিতা, সাথে অভিনয়ের জন্য রোল পাওয়া আর সেখানে ভিলেনের সহকারীর ভূমিকা.... প্রতিটা পদক্ষেপ দারুণ। রেলিং এর পাশ দিয়ে হেঁটে আসার সময় যেরকম হাত পা নাড়ালেন পুরোটাই 'সোনার কেল্লা'র সন্তোষ দত্তকে মনে করালো। উনি লা জবাব। খুব ভালো কাজ করেছেন। কল্পন দত্তকে তোপসের ভূমিকায় প্রথম দুটো এপিসোডে একটু ডাউন দেখালেও পরে যত এগিয়েছে ইমপ্রুভ করেছে। ওর চুলের মেক-আপটা আর একটু নজর দেওয়া যেত। আর একটু ডায়লগ বেশি দিলে হত। সবমিলিয়ে থ্রি-মাস্কেটিয়ার্স পুরোপুরি পাশ। দারুণ! 

🔶️ একজনের কথা আলাদা ভাবে বলতে হয় সে হল পুলোক ঘোষাল। তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাহুল ব্যানার্জী। তাকে যখন কাস্টিং করা হয় তখন অনেকেই ভালোভাবে নেন নি। আমার নিজেরও একটু সন্দেহ ছিল, কিন্তু না দেখে কমেন্ট করব না - এটাই ঠিক করেছিলাম। পুলোকবাবু জটায়ুকে লালুদা বলে ডাকেন। সুতরাং সেটাও মাথায় রেখেছেন পরিচালক মহাশয়। পুলোকবাবুর চরিত্রে রাহুল একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছেন। যে দ্রুততা দরকার চরিত্রে... যেরকম অঙ্গভঙ্গি, চারিদিকে নজর সব দিকেই রাহুল সেরা। পরিচালক মহাশয়ের কাছে আবদার যদি ভবিষ্যতে বোম্বাইয়ের বোম্বেটে করার ইচ্ছা থাকে তবে রাহুলকে যেন না ভুলে যান। 


ছবি সৌজন্যে : Hoichoi (SVF)

🔷️ বিরুপাক্ষ মজুমদারের চরিত্রে বরুণ চন্দ খুবই ভালো। তার চরিত্রের রাশভারি একটা ব্যাপার। স্পষ্ট দৃঢ় কথা সেটাও খুব সুন্দর করেছেন বরুণবাবু। সমীরণের চরিত্রে সুপ্রভাত দাস রয়েছেন। ব্যবসায় লোকশানে জর্জরিত ব্যক্তির হাবভাব বা পোশাকে কিন্তু ছাপ স্পষ্ট। কস্টিউম ডিজাইনার এবং মেক-আপ আর্টিস্ট দুজনেরই প্রশংসা প্রাপ্য। 

🔰 এছাড়া বাকি তিনজন অভিনেতার চরিত্রে অভিনয় করা ব্যক্তি তিনজন যথা সুব্রত দত্ত, সাহেব এবং মুনমুন রয় ঠিকঠাকই আছেন। ওনাদের রোল কম। যতটুকু আছে ভালো করেছেন। মৈনাক আর ফাল্গুনীবাবু অল্প চরিত্রে মোটামুটি বেশ ভালোই। 


ছবি সৌজন্যে : Hoichoi (SVF)

🔰 সিরিজের পর্দাফাঁসের শেষটা মিউজিক দিয়ে একটু কথার হেরফের করে দুর্দান্ত করে শেষ করলেন পরিচালক। ওইটুকু শুধু তুলে দিলাম...

সমীরণ : আমি তো এদের কাছে শিশু!

(ফেলুদা সমীরণের সুটকেসটা নিজেই তুলে নিয়ে খুলতে গেলে...)

সমীরণ : মিঃ মিত্র! একি! আমার সুটকেস...

ফেলুদা : হ্যাঁ, শিশু তো বটেই। তাই আর বালখিল্যপণা না করে এই বালগোপালের মূর্তিটা আপনার পিতার শয়নকক্ষে যথাস্থানে রেখে দিয়ে আসুন তো দেখি চটপট। 

এই অংশটা ফাটাফাটি লেগেছে।। অসাধারণ।❣ 

🔰 ওয়েবসিরিজটির গান নিয়ে আলাদা করে বলার আছে। শ্রীজাতরই কথা। তবে এবার গায়ক আলাদা। মিউজিকে জয় সরকার আছে। আমার গানটা বেশ ভালো লেগেছে। কথাগুলো এবং সুর দুটোই খুব ভালো। ফেলুদা ফেরতের টাইটেল ট্র্যাক এর সাথে যদি তুলনা করা হয় আমি ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির টাইটেল ট্র্যাকটিকেই এগিয়ে রাখব। 

⛔ হইচই যথেষ্ট পেশাদার বলেই মনে করি। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর তারা পরবর্তী সিজন নিয়ে ফেরেন। আশা করব ঠিকঠাক সময়ে পরবর্তী সিজন, ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি : সিজন ২ চলে আসবে। Countdown begins...

♻️ রেটিং - ৯/১০

২০/০৬/২০২২

Comments

  1. খুব ভালো লেখা ভাই

    ReplyDelete
  2. Rating should be 6/10. Srijit M. dwara hoye ni bhalo eita. Chhinnamostar abhishap ta onek e better chhilo.

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

'সুরাবর্দী অ্যাভিনিউ'-এর সুরাবর্দী কে ? || Suhrawardy Avenue

দার্জিলিং জমজমাট || Darjeeling Tour || Sittong, Mungpoo, Takdah, Tinchuley, Lamahatta || Mirik, Lepchajagat ||

কাকা-ভাইপো যা, মামা-ভাগ্নেও তাই !!! || সুরাবর্দী অ্যাভিনিউ || Suhrawardy Avenue